দুবাইয়ে ফের ড্রোন হামলা! বুর্জ খলিফার পাশে দাউদাউ আগুন ও কালো ধোঁয়া, কাঁপছে আরব আমিরশাহি!

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা ও ইরানের (US-Iran War) ছায়া যুদ্ধের বলি কি এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি? শুক্রবার বিকেলে দুবাইয়ের আকাশ ঢেকে গেল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে। পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র দুবাইয়ের কেন্দ্রস্থলে (Central District) পরপর দুটি কানফাটা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল আকাশচুম্বী অট্টালিকাগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিশ্বের উচ্চতম ইমারত বুর্জ খলিফার অদূরেই আকাশে আগুনের গোলক ও ধোঁয়া দেখা গিয়েছে। সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে।

আকাশপথে হামলা ও এয়ার ডিফেন্সের তৎপরতা ঘটনার পরপরই দুবাই মিডিয়া অফিস থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, দুবাইয়ের আকাশসীমায় একটি ‘বহিরাগত থ্রেট’ বা ড্রোন প্রবেশ করেছিল। তবে আমিরশাহির শক্তিশালী ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে সেই ড্রোনটিকে মাঝ আকাশেই ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। দুবাই সরকারের পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, “একটি সফল ইন্টারসেপশনের পর ধ্বংসাবশেষের কারণে শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি বিল্ডিংয়ের বাইরের অংশে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই।”

আতঙ্কে দুবাইয়ের রাজপথ সরকারিভাবে ‘সামান্য ক্ষতি’র দাবি করা হলেও, বাস্তবের চিত্র ছিল যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দুবাইয়ের বিখ্যাত শেখ জায়েদ রোডে সারিবদ্ধভাবে পুলিশের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ছুটতে দেখা যায়। সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পর্যটকদের মধ্যে। দুবাই পুলিশ দ্রুত এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিংয়ের আশেপাশে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ড্রোনটি ধ্বংস করার সময় যে অভিঘাত তৈরি হয়েছিল, তাতেই কেঁপে ওঠে সংলগ্ন এলাকা।

মার্কিন-ইরান যুদ্ধের আবহে বাড়ছে উত্তেজনা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের গন্ধ। এই অঞ্চলের অস্থিরতায় এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন মার্কিন সেনাও রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবারও দুবাইয়ের আল বাদা এলাকায় একটি ‘ছোট ড্রোন দুর্ঘটনা’ ঘটেছিল। পর পর দু’দিন একই ধরনের ঘটনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ইরান ও আমেরিকার এই সরাসরি যুদ্ধে দুবাইয়ের মতো বাণিজ্যিক শহরকে টার্গেট করা হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বে।

কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের আকাশসীমায় নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে যাতে কোনওভাবেই বিদেশি ড্রোন বা মিসাইল জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানতে না পারে।