রেস্তোরাঁয় গেলেই পকেটে টান! বিরিয়ানির বিলে জুড়ল ‘গ্যাস ট্যাক্স’, মাথায় হাত ভোজনরসিকদের!

পেটপুরে বিরিয়ানি বা বাটার চিকেন খাওয়ার পর বিল মেটাতে গিয়ে এখন সাধারণ মানুষের চোখ চড়কগাছ। খাবারের দাম তো আছেই, তার সাথে যোগ হয়েছে ‘ফুয়েল সারচার্জ’ (Fuel Surcharge) বা ‘গ্যাস সাপ্লাই চার্জ’-এর মতো অদ্ভুত সব খাতের নাম। দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের চরম সংকটের জেরে এখন গ্রাহকদের ঘাড়েই বাড়তি খরচের বোঝা চাপাচ্ছে নামী-দামী রেস্তোরাঁগুলো।

চেন্নাইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলোতে ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁর বিলে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ‘LPG Revision’ চার্জ যোগ করা হচ্ছে। হোটেল মালিকদের দাবি, বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। চড়া দামে কালোবাজারি থেকে গ্যাস কিনে রান্নাঘর সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ায়, এই সারচার্জ নেওয়া ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনো পথ খোলা নেই। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে ভারত যে পরিমাণ এলপিজি আমদানি করে, তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ মিলছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI) এক ভয়াবহ পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই সংকট দ্রুত না কাটলে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ ছোট-বড় রেস্তোরাঁ বন্ধের মুখে পড়বে। ইতিমধ্যেই অনেক নামী হোটেল তাদের মেনু কার্ড ছোট করতে বাধ্য হয়েছে এবং আংশিক পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। রান্নার জ্বালানি খরচ এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য বাইরে খাওয়া এখন কেবলই বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যাবে।

অন্যদিকে, এই সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রবল তর্জা। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সংসদে দাবি করেছেন যে দেশে জ্বালানির কোনো অভাব নেই এবং সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। কিন্তু বাজারের বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের হাহাকার মেটেনি, উল্টে দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। সরকারের আশ্বাস আর বাজারের এই বৈপরীত্যের মাঝে সাধারণ মানুষ এখন চরম বিভ্রান্ত ও দিশেহারা। বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওতে ক্লিক করুন।