“দুবাইয়ে আবার বিস্ফোরণ!”-কেঁপে উঠল সবকিছু, বুর্জ খলিফাকে ঘিরে আতঙ্ক!

বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও ধনী শহর হিসেবে পরিচিত দুবাই কি তবে বড়সড় যুদ্ধের ময়দান হতে চলেছে? শুক্রবার সাতসকালে দুবাইয়ের কেন্দ্রস্থলে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দে এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা উত্তপ্ত সংঘাতের সরাসরি আঁচ এবার লাগল দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কেন্দ্রে।

বুর্জ খলিফার পাশেই ধোঁয়ার কুণ্ডলী

শুক্রবার সকাল হতেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে বিশ্বের উচ্চতম স্থাপত্য বুর্জ খলিফা সংলগ্ন এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শহরের অন্যতম ব্যস্ত ব্যবসায়িক কেন্দ্র দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার (DIFC) এবং সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ শোনা গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, যার ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

ড্রোন হামলা না কি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ?

দুবাইয়ের সরকারি সূত্র এবং মিডিয়া অফিস এই ঘটনাকে একটি ‘মাইনর ড্রোন ইনসিডেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি:

  • আল বদা (Al Bada) এলাকায় একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বহুতলের সম্মুখভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • ইউএই (UAE)-র এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় থাকায় বড়সড় হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

  • তবে সফলভাবে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিলেও আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরজুড়ে।

টার্গেট কেন দুবাই?

আন্তর্জাতিক মহলের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হওয়া সংঘাত এখন চরম আকার নিয়েছে। ইরান আগে থেকেই হুমকি দিয়েছিল যে, এই অঞ্চলের মার্কিন সেনা ঘাঁটি ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। যদিও দুবাইয়ের এই কেন্দ্রে সরাসরি মার্কিন ঘাঁটি নেই, তবুও আন্তর্জাতিক আর্থিক হাব হওয়ায় দুবাইকে নিশানা করে বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান।

প্রবাসী ভারতীয় ও বাঙালিদের উদ্বেগ

দুবাই ও শারজায় কর্মরত কয়েক লক্ষ ভারতীয় ও বাঙালি প্রবাসীর মধ্যে এই ঘটনায় ব্যাপক উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিনে দুবাই এয়ারপোর্ট ও পাম জুমেরাহর মতো বিলাসবহুল এলাকায় ড্রোনের আনাগোনা বাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে বাড়ানো হয়েছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখলেও, শহরের ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্রে এই হামলা বিনিয়োগকারীদেরও কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।