ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটরা আউট, এবার দায়িত্বে হেভিওয়েট আধিকারিকরা! কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক বাংলায়?

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। প্রস্তুতি এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যের সবকটি ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ সম্পন্ন করল নির্বাচন কমিশন। এবার ভোট পরিচালনায় নজিরবিহীন স্বচ্ছতা ও কড়াকড়ি আনতে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে কমিশন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি শক্তি শর্মা এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এবারের তালিকায় সবথেকে বড় চমক হলো আধিকারিকদের পদমর্যাদা। আগে অনেক ক্ষেত্রে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার অফিসাররা এই দায়িত্ব সামলালেও, এবার অন্তত মহকুমাশাসক বা সমমানের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তালিকায় অতিরিক্ত জেলাশাসক, জেলা পরিষদের সচিব, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক এবং জেলা পরিকল্পনা আধিকারিকদের মতো হেভিওয়েট নাম রয়েছে। এছাড়াও জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও তফসিলি জাতি-জনজাতি উন্নয়ন আধিকারিকদেরও এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে বৈঠকের সময় কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, ভোট পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদেরই সামনে রাখতে হবে। বিশেষ করে ১৫২টি কেন্দ্রে সরাসরি মহকুমাশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই পুরনো ধারা ভেঙে এই নতুন রণকৌশল নিয়েছে কমিশন। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগের জল্পনার মাঝেই রিটার্নিং অফিসারদের এই তালিকা প্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।