অফিস টাইমে স্টেশনে স্টেশনে হাহাকার, ভোগান্তির চরমে রেলের নিত্যযাত্রীরা

অফিস টাইমের ব্যস্ত সময়ে ফের বিপর্যস্ত শিয়ালদহ মেন শাখার ট্রেন পরিষেবা। সিগন্যাল বিভ্রাটের জেরে দমদম, আগরপাড়া, বেলঘরিয়া-সহ একাধিক স্টেশনে পরপর ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী। রেলের তরফে মেরামতির কাজ শুরু হলেও পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

ঠিক কী কারণে এই ভোগান্তি?

রেল সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল ১০টার পর বেলঘরিয়া স্টেশনের আপ প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুখে আচমকাই ‘হোম সিগন্যাল’ বিকল হয়ে যায়। এর জেরেই থমকে যায় চাকা।

  • আপ লাইনের পরিস্থিতি: সিগন্যাল বিভ্রাটের জেরে বেলঘরিয়ার ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর লোকাল দাঁড়িয়ে পড়ে। এর ফলে পিছনে থাকা রানাঘাট, শান্তিপুরগামী ট্রেনগুলোও আটকে যায়।

  • ডাউন লাইনের ভোগান্তি: ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ব্যারাকপুর-বিবাদী বাগ লোকাল দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় শিয়ালদহগামী লাইনে ট্রেনের লাইন পড়ে যায়। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে আংশিক পরিষেবা চললেও ভিড়ের চাপে যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারেননি।

তথ্য দিতে ব্যর্থ রেল প্রশাসন?

যাত্রীদের প্রধান অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকলেও স্টেশনে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। আগরপাড়া ও বেলঘরিয়া স্টেশনে অনেক যাত্রীকেই বাধ্য হয়ে ট্রেন থেকে নেমে বিকল্প পথের সন্ধানে অটো বা বাসের দিকে ছুটতে দেখা যায়। পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত প্রথমে বিষয়টি জানেন না বলে জানালেও পরে খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মেরামতির কাজ তুঙ্গে

ইতিমধ্যেই রেলের ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তবে সিগন্যাল বিভ্রাট পুরোপুরি সারিয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বনগাঁ এবং মেইন শাখার এই বিপর্যয়ের জেরে প্রভাব পড়েছে শিয়ালদহ স্টেশনেও, সেখানেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।