আমদানি-রফতানি স্তব্ধ! ঘরোয়া বাজারে হু হু করে বাড়ছে কাশির সিরাপ ও ট্যাবলেটের দাম?

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে এবং স্বাস্থ্যে। মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও জাহাজ চলাচল রুটে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতের ওষুধ শিল্পে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আগামী মার্চ মাসের শেষের দিকেই জীবনদায়ী ওষুধের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভারত তার ওষুধের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস’ (API)-এর প্রায় ১৬ শতাংশ ইউরোপ থেকে আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। বর্তমানে এই রুট কার্যত বন্ধ থাকায় কাঁচামালের সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে। কোটাক সিকিউরিটিজের গবেষণা প্রধান অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিকে ‘অজৈব কোভিড’ (Inorganic COVID) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, অন্যদিকে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

শুধু ওষুধই নয়, এর প্রভাব পড়ছে প্যাকেজিং এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের ওপরেও। অল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ লাইসেন্স হোল্ডার্স ফাউন্ডেশনের সভাপতি অভয় পান্ডে জানিয়েছেন, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম বাড়ায় প্লাস্টিকের বোতল, কাশির সিরাপ, গ্লিসারিন এমনকি মাস্কের দামও বাড়তে চলেছে। যদিও কোম্পানিগুলোর কাছে বর্তমানে তিন মাসের বাফার স্টক রয়েছে, কিন্তু নতুন করে কাঁচামাল না এলে উৎপাদন রেশনিং বা কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে সংস্থাগুলি। এর ফলে বাজারে ওষুধের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।