নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ অনুব্রতর! মুসলিম ও আদিবাসী মহিলাদের ‘টার্গেট’ করার দাবি!

ফের স্বমহিমায় বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। এবার সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। বৃহস্পতিবার বোলপুরে একটি হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডল এবং বিধানসভার উপাধ্যক্ষ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিস্ফোরক সব তথ্য পেশ করেছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদিবাসী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিলাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এদিন বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সাধারণ মানুষদের সঙ্গে নিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অনুব্রত। তাঁর দাবি, জেলা জুড়ে প্রায় ১১ হাজার ৬০৬ জন বৈধ ভোটারের নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে, যাদের কাছে সমস্ত বৈধ নথিপত্র এবং জমি-বাড়ির দলিল রয়েছে। ক্ষুব্ধ অনুব্রত প্রশ্ন তোলেন, “আদিবাসীরা এদেশের আদি বাসিন্দা, তাদের নাম বাদ যায় কীভাবে? কেন এক এক রাজ্যে কমিশনের এক এক রকম নিয়ম হবে?” এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি গুরুতর অভিযোগ আনেন।

রাজ্যজুড়ে বর্তমানে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা চরমে। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ধরনায় বসেছিলেন। বীরভূমের প্রতিটি ব্লক থেকে তালিকা তৈরি করে জেলাশাসকের কাছে জমা দিয়েছে তৃণমূল। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় সরাসরি কমিশনের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জানিয়েছেন, এই ইস্যুর কারণে বহু মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নির্বাচনের মুখে এই ‘ভোটার কার্ড’ বিতর্ক বীরভূমের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।