OMG! স্ত্রী-কে আগুন লাগাতে গিয়েই অগ্নিদগ্ধ স্বামী, নার্স-মৃত্যুতে তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদন, কোচবিহার: বুধবার রাতে কোচবিহার শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্সী বাড়ি মোড় এলাকায় যে নার্সের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল এক হাড়হিম করা নিষ্ঠুরতা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— পেশায় গাড়ি চালক স্বামী রঞ্জিত রায় নিজের গাড়ি থেকে ডিজেল বের করে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছেন স্ত্রী ছন্দা রায়কে (৩৫)। আর সেই আগুন ধরাতে গিয়েই নিজেও দগ্ধ হয়েছেন অভিযুক্ত।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছন্দা পেশায় নার্স ছিলেন এবং বক্সী বাড়ি মোড় এলাকায় রঞ্জিতের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরেই এই দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল। বুধবার রাতে সেই বিবাদ চরম আকার নেয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত রঞ্জিত তাঁর গাড়ির তেলের পাইপ থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে ঘরে ঢোকেন এবং অতর্কিতে স্ত্রীর গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছন্দা রায়ের।

স্বীকারোক্তি ও ভাইরাল ভিডিও: ঘটনার পর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে দগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় রঞ্জিতকে। বর্তমানে তিনি কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকেই রঞ্জিতের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা গেছে যে— তিনি নিজেই স্ত্রীকে তেল ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছেন।

তদন্তে পুলিশ: মৃত নার্সের ভাই ইতিমধ্যেই কোতোয়ালি থানায় তাঁর জামাইবাবুর বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা জানিয়েছেন, “একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। সুস্থ হলেই তাঁকে সরকারিভাবে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের পর ছন্দার দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ভাড়া বাড়ির চার দেওয়ালে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোচবিহার শহরজুড়ে শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।