১৯৩ সাংসদের সই, নজিরবিহীন পদক্ষেপ! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে মরিয়া মমতা-অভিষেক

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সংঘাতের আবহ। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ করতে এবার সরাসরি সংসদীয় অস্ত্র প্রয়োগ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, শুক্রবারই সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের নোটিশ পেশ করতে পারে জোড়া-ফুল শিবির। ইতিমধ্যেই লোকসভা ও রাজ্যসভার ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ এই নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেকটাই বেশি।

ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকা পরিমার্জনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। বিশেষ করে রাজ্যে ‘বিবেচনাধীন ভোটার’ বা আন্ডার রিভিউ ভোটারের সংখ্যা রাতারাতি ৬০ লক্ষে পৌঁছে যাওয়া নিয়ে গর্জে উঠেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতায় যখন জ্ঞানেশ কুমার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন, ঠিক তখনই ধরণা মঞ্চে বসে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি আঁকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যানভাসে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘ভ্যানিশ’, যা আদতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিদায়েরই স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে গেলে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। তৃণমূলের সংগৃহীত ১৯৩টি স্বাক্ষরের মধ্যে ১৩০ জন লোকসভার এবং ৬৩ জন রাজ্যসভার সাংসদ রয়েছেন। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে আর কোনো বাধা নেই। তবে ভারতের ইতিহাসে এর আগে কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার নজির নেই। যদি এই প্রস্তাব গৃহীত হয়, তবে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তা পাশ হতে হবে। এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে ফের একবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দলগুলি কাছাকাছি আসছে, যা কেন্দ্রের শাসক শিবিরের ওপর চাপ বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।