“২৬-এ কিংমেকার হব আমরাই!” মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন নিয়ে মালদায় হুঙ্কার হুমায়ুন কবীরের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় দাবি করে বসলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। বরং তাঁর দলই সরকার গঠনের ‘চাবিকাঠি’ বা কিংমেকারের ভূমিকা পালন করবে। শুধু তাই নয়, পরোক্ষভাবে নিজেকে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি।
এদিন হুমায়ুন কবীরের মূল আক্রমণের নিশানায় ছিল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া। মালদার অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন, “SIR আসলে মুসলিমদের হয়রানি করার এবং সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।” তাঁর মতে, চার মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কার্যত অসম্ভব এবং কমিশনের অযোগ্য কর্মীরা ৫ শতাংশ অ্যাপ বা কম্পিউটারের কাজও জানেন না। তাঁর দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বর্তমানে ঝুলে রয়েছে, যার বড় অংশই মালদা ও মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।
জোট সমীকরণ নিয়ে হুমায়ুন জানান, মিম (AIMIM) তাঁদের সঙ্গে থাকলেও বামেদের সঙ্গে জোটের আশা অত্যন্ত ক্ষীণ। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “আমরা ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেব এবং ১০০-র বেশি আসনে জয়ী হব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মা-মাটি-মানুষের নেত্রী নেই। নন্দীগ্রামে হারের পর আমরাই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলাম, অথচ তিনি আজ বিধায়কদেরও সময় দেন না।” ভোটের আগে হুমায়ুন কবীরের এই আক্রমণাত্বক মেজাজ সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।