“DA-ধর্মঘটে নবান্নের কড়া ফতোয়া”-অফিস কামাই করলে কাটা যাবে বেতন ও সার্ভিস

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA)-র দাবিতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরকারি কর্মীদের লড়াই এবার এক চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামীকাল শুক্রবার, ১৩ মার্চ বকেয়া ডিএ-সহ একাধিক দাবিতে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, সরকারি কর্মচারী পরিষদ ও যৌথ মঞ্চ। তবে এই ধর্মঘট রুখতে একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ নবান্ন। বৃহস্পতিবার কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— কাল কোনো স্কুল, কলেজ বা সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে না।
ছুটি নিলেই কড়া শাস্তি: কী জানাল নবান্ন? নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার কোনো কর্মীর ‘ক্যাজুয়াল লিভ’ (CL) বা ‘হাফ ডে’ ছুটি গ্রাহ্য হবে না। কেউ যদি বিনা কারণে অফিসে না যান, তবে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে দেখে নিন:
-
অনুপস্থিত কর্মীর জন্য ওই দিনটি ‘নো-স্যালারি ডে’ হিসেবে গণ্য হবে।
-
বেতন কাটার পাশাপাশি ওই কর্মীর সার্ভিস বুক বা কর্মজীবন থেকেও একদিন বাদ যাবে।
-
কোনোভাবেই কোনো পুরনো ছুটি এই দিনের অনুপস্থিতির সাথে অ্যাডজাস্ট করা যাবে না।
ছাড় পাবেন কারা? তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি শিথিল রাখা হয়েছে। যদি কোনো কর্মী আগে থেকেই নিম্নলিখিত ছুটিতে থাকেন, তবে তাঁর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না:
-
হাসপাতালে ভর্তি বা গুরুতর অসুস্থতা।
-
পরিবারে কোনো বড় দুর্ঘটনা বা শোক।
-
ম্যাটারনিটি লিভ (Maternity Leave) বা চাইল্ড কেয়ার লিভ।
-
আগে থেকে অনুমোদিত অর্জিত ছুটি (Earned Leave) বা মেডিকেল লিভ।
জরুরি পরিষেবা থাকছে বনধের বাইরে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে হাসপাতাল, পানীয় জল ও পরিবহণের মতো জরুরি পরিষেবাগুলোকে এই ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষক সংগঠনগুলো এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ায় কাল রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পঠনপাঠন কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
সরকারের এই ‘কড়া দাওয়াই’ সত্ত্বেও কর্মীরা কাল কতটা সাড়া দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।