গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে ময়দানে লালবাজার! শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশের হানা, শুরু ধরপাকড়

রাজ্যজুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র ঘাটতির সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নামল কলকাতা পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তার পর, বৃহস্পতিবার থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে পুলিশের মেগা অপারেশন। লালবাজারের নির্দেশে প্রতিটি থানাকে সতর্ক করা হয়েছে এবং গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট ও গুদামগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB) ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন গ্যাস গুদামে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু করেছে। মূল লক্ষ্য হলো, গ্রাহকদের জন্য বরাদ্দ সিলিন্ডার যাতে চড়া দামে বাইরে বিক্রি না হয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “শহরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মজুত সিলিন্ডারের স্টক নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে।” বিশেষ করে, গৃহস্থালীর এলপিজি সিলিন্ডার বাণিজ্যিক কাজে বা গাড়ির জ্বালানি হিসেবে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুরনো অপরাধী যারা ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করে বিক্রি করে, তাদের উপরও চলছে কড়া নজরদারি।

এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুলিশ ব্যারাকগুলোর জন্যও নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে রান্নার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইন্ডাকশন কুকার ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকারও জ্বালানি সংকট সামাল দিতে পেট্রোকেমিক্যাল খাতের বরাদ্দ কমিয়ে গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাস ও সিএনজি সরবরাহকে ১০০ শতাংশ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে তৈরি হওয়া এই জোগান ঘাটতি মেটাতে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন এখন একযোগে কাজ করছে।