“খড়্গপুর থেকে মুর্শিদাবাদ”—বদলে যাবে বাংলার মানচিত্র! মমতার গড়ে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মোদীর

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: লোকসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই বঙ্গে উন্নয়নের ঝুলি নিয়ে হাজির হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী শনিবার কলকাতার ধর্মতলায় এক মেগা জনসভা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ১৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্পের উপহার দিতে চলেছেন তিনি। সড়ক, রেল এবং বন্দর— তিন বিভাগেই একঝাঁক নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রেলে বিপ্লব: উদ্বোধন হবে নতুন ট্রেন ও ৬টি স্টেশন শনিবারের সভা থেকে বাংলার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনতে চলেছেন মোদী। সেদিনই সবুজ সংকেত দেওয়া হবে পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার ট্রেনের। এই নতুন ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ হয়ে সরাসরি দিল্লির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। পাশাপাশি ‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’-এর অধীনে ভোল বদলে যাওয়া ৬টি স্টেশনের উদ্বোধন করবেন তিনি। তালিকায় রয়েছে:
-
বারাসত, হলদিয়া, সিউড়ি, তমলুক, কামাখ্যাগুড়ি এবং আনারা রেলওয়ে স্টেশন।
সড়কপথে বড় ধামাকা: বাঁচবে ৭-৮ ঘণ্টা সময়! প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সবথেকে বড় চমক হলো ১৬,৯৯০ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্প। ৪২০ কিলোমিটার দীর্ঘ একাধিক জাতীয় সড়কের শিলান্যাস করবেন তিনি। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো খড়্গপুর-মোরগ্রাম অর্থনৈতিক করিডর।
-
রুট: এটি পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের ওপর দিয়ে যাবে।
-
সুবিধা: এর ফলে খড়্গপুর থেকে মোরগ্রামের দূরত্ব কমবে প্রায় ১২০ কিমি। যাত্রীদের অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।
-
এছাড়াও বীরভূমের দুবরাজপুর শহরের যানজট কাটাতে তৈরি হচ্ছে নতুন ফোর-লেন বাইপাস।
হলদিয়া বন্দরে প্রযুক্তির ছোঁয়া শুধু স্থলপথ নয়, জলপথের উন্নয়নেও নজর দিয়েছে কেন্দ্র। হলদিয়া বন্দরের ২ নম্বর বার্থের আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মোদী। এর ফলে কয়লা লোডিং হবে আরও দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়বে, তেমনই তৈরি হবে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থান।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে মোদীর এই ১৮ হাজার কোটির প্রকল্প ঘোষণা বাংলার মানুষের মন জয়ে মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে।