মালদায় প্রার্থিপদ নিয়ে দুই ফুলেই ‘সাসপেন্স’! কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে? ১২ আসনেই চুলচেরা বিশ্লেষণ তৃণমূল-বিজেপির

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার আগেই মালদা জেলার ১২টি বিধানসভা আসনে প্রার্থিপদ নিয়ে পারদ চড়ছে রাজনৈতিক মহলে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি— দুই শিবিরের অন্দরেই এখন টিকিট পাওয়া এবং বাদ পড়া নিয়ে জোর জল্পনা। বিশেষ করে ইংরেজবাজার থেকে সুজাপুর, প্রতিটি কেন্দ্রেই নাম নিয়ে নতুন নতুন সমীকরণ উঠে আসছে।
গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, হবিবপুর, মালদা এবং গাজোলের মতো আসনগুলিতে একুশের জয়ী বিধায়কদের ওপর দল পুনরায় ভরসা রাখলেও, সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে ‘ইংরেজবাজার’ কেন্দ্র নিয়ে। শোনা যাচ্ছে, বর্তমান বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর বদলে এখানে অম্লান ভাদুড়ি বা বিষ্ণুপদ রায়ের মতো নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে, চাঁচলে আদর্শ রাম এবং মানিকচকে গৌর মণ্ডলের নাম নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব জানাচ্ছে, প্রার্থী তালিকা নিয়ে দিল্লি ও রাজ্য নেতৃত্ব চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখছে।
পাল্টা চালে চমক দিতে প্রস্তুত তৃণমূলও। ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের খবর, হবিবপুর কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদের স্ত্রী অরুণা মার্ডিকে প্রার্থী করে বড় চমক দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুজাপুর কেন্দ্রে উঠে আসছে জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেনের নাম। ইংরেজবাজারের প্রাক্তন বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষকে তাঁর পুরনো কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। এছাড়া মালতিপুরে আবদুর রহিম বকসি এবং মোথাবাড়িতে সাবিনা ইয়াসমিনের নাম একপ্রকার পাকা বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও দুই শিবিরের নেতারাই জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তাঁদের শীর্ষ নেতৃত্ব। আপাতত মালদার প্রতিটি চায়ের দোকানে এখন একটাই প্রশ্ন— শেষ হাসি কে হাসবেন?