কলকাতার হাসপাতালে হাহাকার! গ্যাসের অভাবে বন্ধ হতে পারে ৫০০০ মানুষের অন্নদান, কান্নায় ভেঙে পড়লেন রোগীর আত্মীয়রা

শহরজুড়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র আকাল এবার সরাসরি আঘাত হানল সমাজের সবথেকে অসহায় স্তরে। কলকাতার প্রায় ১০টি সরকারি হাসপাতালের সামনে প্রতিদিন যে ৫০০০ রোগীর আত্মীয়কে বিনামূল্যে রুটি-সবজি খাওয়ানো হয়, সেই পরিষেবা এখন বন্ধের মুখে। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মতো রান্নার রসদ থাকলেও স্টকে আর একটিও গ্যাস সিলিন্ডার নেই। ডিলারদের দোরগোড়ায় ঘুরেও মিলছে না সুরাহা। ফলে কাল থেকে হাজার হাজার মানুষের মুখে অন্ন উঠবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সবথেকে ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ছে এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতালের ‘মা ক্যান্টিন’ এবং আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে। ৫ টাকায় পেটভরা ডাল-ভাত-ডিম পাওয়া যেত যেখানে, সেখানেও ত্রাহি ত্রাহি রব। যদিও মা ক্যান্টিনের কর্মীরা পরিষেবা চালু রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কিন্তু জোগান না থাকলে কতক্ষণ তা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আরজিকরের নার্সিং এবং স্টুডেন্ট হোস্টেলগুলিতে ইতিমধ্যেই গ্যাসের টান পড়েছে। হোস্টেল সুপাররা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতির গুরুত্ব জানিয়ে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।
এই সঙ্কটের কোপ থেকে রেহাই পাচ্ছে না খুদে পড়ুয়ারাও। কলকাতার একাধিক প্রাথমিক স্কুলে মিড-ডে মিলের গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। অনেক জায়গায় বাচ্চাদের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়ে পুরনো দিনের মতো কাঠের উনুন বা মাটির আঁচল জ্বালিয়ে রান্না করা হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীর আত্মীয়দের গলায় এখন একটাই সুর— “গ্যাস না এলে এবার বোধহয় না খেয়েই মরতে হবে।” বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের কালো মেঘ এখন তিলোত্তমার সাধারণ মানুষের পাত থেকে খাবার কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করেছে।