“কেন রাগ মমতাদির?” রাষ্ট্রপতির সেই আক্ষেপের পরেই নড়েচড়ে বসল নবান্ন! দ্বিতীয়বার চিঠি গেল রাইসিনা হিলসে

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক বঙ্গ সফর এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক চাপানউতোর এবার এক নয়া মোড় নিল। প্রথম চিঠির জবাবে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ না মেলায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ফের দ্বিতীয়বার রাইসিনা হিলসে চিঠি পাঠাল তৃণমূল কংগ্রেস। লক্ষ্য একটাই— রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি দেখা করে রাজ্যের জনজাতি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা এবং সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটানো।
বিতর্কের সূত্রপাত গত শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। জানি না মমতাদির আমার ওপর কেন এত রাগ!” রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধীরা যখন এই নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে, তখনই পালটা পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানায় শাসকদল। তবে প্রথমবার সময় না মেলায় এবার দ্বিতীয় চিঠিতে আগামী সপ্তাহের কোনও একদিন ১৫ জন সাংসদের প্রতিনিধি দলের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার জনজাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে যে সমস্ত কাজ করেছে তা রাষ্ট্রপতিকে অবগত করা। তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং ওবিসি মানুষের জন্য মমতা সরকারের ‘মাইলফলক পদক্ষেপ’, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিক্ষা প্রকল্পের সাফল্য রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতে চায় তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাষ্ট্রপতি যে অভিযোগ করেছেন তা খণ্ডন করতেই তৃণমূলের এই মরিয়া চেষ্টা। এখন দেখার, দ্বিতীয় চিঠির প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলে কি না।