‘লাভ জিহাদ নয়, ওকেই জোর করে বিয়ে করেছি!’ ভাইরাল মোনালিসার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় দেশ!

মহাকুম্ভের সেই ভাইরাল মুখ মোনালিসা এবং অভিনেতা ফারমান খানের বিয়ে ঘিরে এখন সরগরম জাতীয় রাজনীতি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া। পরিবারের অমতে ভিনধর্মে বিয়ে করে একদিকে যেমন প্রশংসা কুড়াচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনই ‘লাভ জিহাদ’-এর তকমা সেঁটে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের ওপর। অবশেষে যাবতীয় জল্পনা ও বিতর্কের অবসান ঘটাতে বৃহস্পতিবার সশরীরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন এই নবদম্পতি। কেরালায় পুলিশি নিরাপত্তায় মন্দিরে বিয়ের পর তাঁদের সাফ কথা— “ভালোবাসার কোনো ধর্ম হয় না।”

মোনালিসা ও ফারমানের প্রেমকাহিনী কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা মোনালিসার সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের ফারমানের আলাপ হয় মাত্র ছয় মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখান থেকেই বন্ধুত্বের শুরু এবং প্রেম। কিন্তু বাধ সাধে পরিবার। মোনালিসার বাবা জয় সিং ভোঁসলে এই ভিন্নধর্মী সম্পর্ক মানতে নারাজ ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, মোনালিসাকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক পিসতুতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। মোনালিসার কথায়, “বাবা যার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছিলেন সে আমার ভাইয়ের মতো। আমি তাকে বিয়ে করতে পারি না। তাই নিজের খুশিতে ফারমানকে বিয়ে করেছি।”

সাংবাদিক বৈঠকে মোনালিসা অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে জানান যে, ফারমান তাঁকে জোর করেননি, বরং তিনিই ফারমানকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ফারমান আমাকে বিয়ে করতে চাইছিল না পরিস্থিতি জটিল হবে ভেবে। আমিই ওকে জোর করে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে হিন্দু রীতি মেনে বিয়ে করেছি।” অন্যদিকে ফারমান খান, যিনি মালায়লম ও হিন্দি ছবির পরিচিত মুখ, তিনি ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা শিল্পী, আমাদের কাছে সব ধর্মই সমান। আমি মোনালিসার ধর্ম পরিবর্তন করাইনি। ও হিন্দু ছিল, হিন্দুই আছে। আমরা একে অপরের ধর্মকে সম্মান করি।”

এই বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেরালার শিক্ষামন্ত্রী ভি. শিবানকুট্টি এবং সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দনের মতো ব্যক্তিত্বরা। ফারমান এদিন মোনালিসার আধার কার্ড ও বার্থ সার্টিফিকেট দেখিয়ে প্রমাণ করেন যে মোনালিসা সাবালিকা। ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া মোনালিসার বয়স বর্তমানে ১৮ বছর। খুব শীঘ্রই তাঁরা আইনিভাবে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করবেন বলেও জানিয়েছেন। আপাতত এই তারকা দম্পতির সাহসিকতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।