পেটে টান মিড ডে মিলে! গ্যাস সংকটে বাদ সয়াবিন-ডিম, খুদে পড়ুয়াদের পাতে জুটছে শুধু ডাল-ভাত

রাজ্যে রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র আকাল এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল স্কুলের মিড ডে মিলের প্লেটে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় কলকাতার স্কুলগুলিতে নিয়মিত খাবার পাঠানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্কুলে নিজস্ব রান্নার ব্যবস্থা নেই এবং কমিউনিটি কিচেনের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গড়িয়াহাটের এক কমিউনিটি কিচেন সূত্রে খবর, আগে যেখানে ভাত আর সয়াবিনের তরকারি মেনুতে থাকত, গ্যাসের সাশ্রয় করতে এখন বাধ্য হয়ে এক হাঁড়িতে ‘ডাল-ভাত’ সিদ্ধ করে পাঠানো হচ্ছে। এতে রান্নার সময় ও গ্যাস দুই-ই বাঁচলেও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পড়ুয়ারা। কোথাও আবার কোনোমতে ডিম সিদ্ধ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সংকট কেবল স্কুলেই সীমাবদ্ধ নেই; এর আঁচ এসে পড়েছে সেক্টর ফাইভের মতো অফিস পাড়ার ভাতের হোটেলগুলোতেও। প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মী যেখানে দুপুরের খাবারের জন্য ভিড় জমান, সেখানে গ্যাসের অভাবে অনেক দোকানই ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। মাছ, মাংস বা একাধিক পদের রান্না করতে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের প্রয়োজন হয়, যা বর্তমানে অমিল। এর ফলে অফিস যাত্রীরাও খাবার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন।

অন্যদিকে, শহর ছাড়িয়ে জেলাগুলোতেও হাহাকার চরমে। নন্দীগ্রামে সকাল থেকেই ডিস্ট্রিবিউটর অফিসের সামনে খালি সিলিন্ডার নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন গ্রাহকরা। অভিযোগ উঠেছে, অনলাইনে বুকিং করলেও ডেলিভারির কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ফোন বা মিসড কলে বুকিং কাজ করছে না। তবে দেখা গিয়েছে, ফোন-পে (PhonePe) বা গুগল-পে (Google Pay)-র মতো থার্ড পার্টি অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং কিছুটা সচল রয়েছে। এই গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে চিন্তিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন।