শচীনকে কি তবে অবসর নিতে বাধ্য করেছিল বোর্ড? বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন প্রাক্তন নির্বাচক প্রধান!

ক্রিকেট মাঠে তিনি ঈশ্বর। ২৪ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড আর আবেগের মিশেলে তিনি হয়ে উঠেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের শেষ কথা। কিন্তু সেই শচীন রমেশ তেন্ডুলকারকেও নাকি সরানোর পরিকল্পনা করে ফেলেছিল বিসিসিআই! ২০১২ সালে, যখন শচীনের অফ-ফর্ম নিয়ে চারিদিকে গুঞ্জন, তখনই নাকি তাঁর বিকল্প তৈরি রেখেছিল নির্বাচক মণ্ডলী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন বোর্ডের তৎকালীন নির্বাচক প্রধান সন্দীপ পাটিল।
২০১২ সালটা ক্রিকেটের ঈশ্বরের জন্য মোটেই ভালো ছিল না। পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যাবে, নয়টি টেস্টে তাঁর গড় ছিল মাত্র ২৩.৮০। ছিল না একটিও শতরান। ১০টি ওডিআই ম্যাচেও গড় ছিল মাত্র ৩১.৫০। পাটিল জানান, সেই সময়েই নির্বাচক কমিটি শচীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। তিনি সরাসরি শচীনকে প্রশ্ন করেছিলেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। শচীন অবাক হয়ে যখন এর কারণ জানতে চান, পাটিল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে বোর্ড বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। এই কথা শুনে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’।
সন্দীপ পাটিলের কথায়, “একজন নির্বাচকের ক্ষমতা নেই কোনো কিংবদন্তিকে অবসর নিতে বাধ্য করার। আমরা শুধু তাঁকে দল থেকে বাদ দিতে পারি। কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম তাঁর পরিকল্পনা জানতে।” শচীন সেদিন পরিষ্কার জানিয়েছিলেন যে তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চান। এরপর নির্বাচকরা তাঁকে আরও সময় দিলেও, নেপথ্যে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। পাটিল মনে করিয়ে দেন, সেই সময় সামি, বুমরাহ, অশ্বিন, জাদেজা বা রাহানেদের মতো তরুণ তুর্কিরা উঠে আসছিলেন। পরিবর্তনের সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে শচীনকে বাতিলের তালিকায় রাখা ছিল কঠিনতম সিদ্ধান্ত। অবশেষে ২০১৩ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়েতে ব্যাট তুলে রাখেন শচীন। কিন্তু পাটিলের এই দাবি এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—শচীন কি স্বেচ্ছায় বিদায় নিয়েছিলেন, নাকি তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল?