গ্যাস ফুরানোর টেনশন শেষ! ইন্ডিয়ান অয়েলের এই ‘ভেজা কাপড়ের’ ম্যাজিক ট্রিক জানেন কি?

রান্না করতে করতে হঠাৎ গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়া যে কোনো গৃহিণীর কাছে এক দুঃস্বপ্নের মতো। বর্তমানে এলপিজি গ্যাসের জোগানে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে হাতে অতিরিক্ত সিলিন্ডার না থাকলে বিপদ আরও বাড়ে। কিন্তু সিলিন্ডার তো আর কাঁচের নয় যে বাইরে থেকে দেখে বোঝা যাবে কতটা অবশিষ্ট আছে! চিন্তার কিছু নেই, বিজ্ঞানের একটি সহজ নিয়ম মেনে কোনো মেশিন ছাড়াই আপনি ঘরে বসে নিখুঁতভাবে জেনে নিতে পারেন আপনার সিলিন্ডারে আর কতটুকু গ্যাস আছে।

সবচেয়ে কার্যকরী ‘ভেজা কাপড়’ পদ্ধতি
গ্যাস মাপার সবথেকে বৈজ্ঞানিক ও সহজ উপায় হলো ভেজা কাপড়ের পরীক্ষা। এর পেছনের যুক্তি হলো, সিলিন্ডারের যে অংশে তরল গ্যাস থাকে, সেটি খালি অংশের চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা হয়। প্রথমে একটি কাপড় জলে ভিজিয়ে নিন। এবার সেই ভেজা কাপড়টি দিয়ে পুরো সিলিন্ডারটি ভালো করে মুছে দিন অথবা চারপাশ দিয়ে জড়িয়ে রাখুন। মিনিট তিনেক পর কাপড়টি সরিয়ে নিন। দেখবেন সিলিন্ডারের ওপরের অংশ খুব দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু নিচের একটি নির্দিষ্ট অংশ তখনও ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে রয়েছে। সিলিন্ডারের যে অংশটি ভেজা থাকবে, বুঝে নেবেন ততটুকুতেই গ্যাস ভরা আছে।

আগুনের শিখা দেখে সতর্কতা
এটি আপনাকে সঠিক পরিমাণ না জানালেও সতর্ক করবে। যদি দেখেন ওভেনের বার্নারে শিখার রঙ গাঢ় নীল, তবে বুঝবেন পর্যাপ্ত গ্যাস ও প্রেশার রয়েছে। কিন্তু আগুনের রঙ যদি হলুদ বা কমলাটে হতে শুরু করে, তবে বুঝবেন গ্যাস প্রায় শেষের পথে। অমেধ্য পুড়তে শুরু করার কারণেই রঙের এই পরিবর্তন হয়।

চক পদ্ধতি ও ওজন
আপনি চাইলে সিলিন্ডারের গায়ে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চকের দাগ কেটেও পরীক্ষা করতে পারেন। এছাড়া ঘরে ওজন করার মেশিন থাকলে মোট ওজন থেকে সিলিন্ডারের গায়ে লেখা ‘Tare Weight’ বিয়োগ করলেই গ্যাসের সঠিক ওজন পেয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, একটি সাধারণ সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। এই সহজ কৌশলগুলো জানা থাকলে রান্নার মাঝপথে আর বিপদে পড়তে হবে না।