২৫০০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার! হু হু করে বাড়ছে সিঙাড়া-চায়ের দাম, দেশে কি ফিরছে লকডাউনের হাহাকার?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল ভারতের সাধারণ মানুষের থালায়। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে দেশে এলপিজি (LPG) সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, নয়ডার মতো শহরে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৫০০ টাকা থেকে লাফিয়ে ২৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মধ্যবিত্তের পকেটে; ১০ টাকার চা বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়, আর সিঙাড়ার দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
গিগ কর্মীদের মাথায় হাত, বন্ধ হচ্ছে রেস্তোরাঁ
এলপিজির অগ্নিমূল্য এবং জোগানের অভাবে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা এবং বিহারের অসংখ্য ছোট-বড় রেস্তোরাঁ ও ধাবা বন্ধ হওয়ার মুখে। এর ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের সাথে যুক্ত লক্ষ লক্ষ গিগ কর্মীরা। শ্রমিক সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, খাবার ডেলিভারির হার প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যাওয়ায় কাজ হারিয়েছেন বহু যুবক। অনেক গিগ কর্মীর আক্ষেপ, “পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ফের সেই করোনাকালের লকডাউন ফিরে এসেছে।”
কেন্দ্রের আশ্বাস ও নতুন কড়াকড়ি
আতঙ্ক ছড়াতেই ময়দানে নেমেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, দেশে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের ১০০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। তবে মজুতদারি রুখতে সরকার বুকিংয়ের নিয়মে বদল এনেছে। আগে ২১ দিন অন্তর সিলিন্ডার বুক করা যেত, এখন সেই ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, প্রয়োজনে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করে কালোবাজারি রোখা হবে।
আমদানি ও বিকল্প পরিকল্পনা
ভারত তার এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার ৯০ শতাংশই আসে সংকটাপন্ন হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই ঝুঁকি এড়াতে দেশীয় উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কিছুটা কাটছাঁট করা হতে পারে। দিল্লিতে বর্তমানে গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা রাখা হয়েছে ভর্তুকির মাধ্যমে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।