শেয়ার বাজারে রক্তগঙ্গা! ১০০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স, যুদ্ধের গ্রাসে পুড়ে ছাই বিনিয়োগকারীদের লক্ষ কোটি টাকা!

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৬ সকালে বাজার খুলতেই তীব্র পতনের মুখে পড়ে দালাল স্ট্রিট। ইরান-আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লার্জ-ক্যাপ থেকে স্মল-ক্যাপ—বিক্রির চাপে কার্যত সব খাতেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে।
এদিন শুরুর লেনদেনেই বিএসই সেনসেক্স প্রায় ১০০০ পয়েন্টের বেশি ধসে ৭৫,৮৯০-এর স্তরে নেমে আসে। নিফটি-৫০ সূচকটিও ১.২৬% কমে ২৩,৫৬৫-এর ঘরে লেনদেন করছে, যা ২৩,৬০০-এর গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তরের নিচে। সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে অটো সূচকে (২.৪০%), এর পরেই রয়েছে রিয়েলটি, মিডিয়া এবং পিএসইউ ব্যাঙ্ক। বাজারের অস্থিরতা মাপার সূচক ‘ইন্ডিয়া VIX’ ৪.৩৫% বেড়ে ২১.৯৮-এ পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন। তবে আইটি এবং ফার্মা সেক্টর কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বাজারের সামগ্রিক পতন রুখতে তা ব্যর্থ হয়েছে।
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ভি কে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, “ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলারে ফিরে আসায় বাজার দুর্বল অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII) লাগাতার শেয়ার বিক্রি করে চলায় দেশীয় বিনিয়োগকারীদের (DII) কেনাকাটাও বাজারকে চাঙ্গা করতে পারছে না।” তাঁর মতে, এই অস্থির সময় আতঙ্কিত না হয়ে ব্লুচিপ শেয়ারে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করা বা এসআইপি চালিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই বাজার আবার আগের ছন্দে ফিরবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।