গ্যাসের জন্য হাহাকার! সিস্টেম ক্র্যাশ থেকে কালোবাজারি—দেশজুড়ে চরম সঙ্কটে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের!

ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির জোগানে টান পড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) জন্য শুরু হয়েছে হাহাকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব তড়িঘড়ি সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিব এবং পুলিশ মহাপরিচালকদের (DGP) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। কালোবাজারি ও অসাধু মজুদদারি রুখতে স্পষ্ট এবং কঠোর নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্র।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের আধিকারিক সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে এলপিজি মজুত রয়েছে, তাই সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আতঙ্কে মানুষ অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুক করার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOCL)-এর তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ সময়ের তুলনায় ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি বুকিং কল আসায় তাদের সিস্টেম সাময়িকভাবে ক্র্যাশ করেছে। সরকার ইতিমধ্যে ৮ মার্চের এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশ জারি করে শোধনাগারগুলিকে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সরবরাহে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে ডিস্ট্রিবিউটারদের গুদামে নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে রাজধানীতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয় মজুদদারি এড়িয়ে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধের আবহে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।