যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন পেজেশকিয়ান! ট্রাম্পের ‘সব শেষ’ দাবির পাল্টায় হুঙ্কার ইরানের!

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে এবার সরাসরি তিন শর্তের কথা ঘোষণা করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের আবহেই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শান্তি তখনই সম্ভব যদি ইরানের ‘বৈধ অধিকার’কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, শুধু অধিকার স্বীকৃতি নয়, যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইরান আর কোনো আক্রমণের মুখে পড়বে না—তার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে হবে।

রাশিয়া ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনার পর পেজেশকিয়ান শান্তির পথে ফেরার বার্তা দিলেও, সুর নরম করেনি ইরানের সামরিক বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেকারচি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যদি ইরানের কোনো বন্দর বা অর্থনৈতিক কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়, তবে পারস্য উপসাগরের কোনো বন্দরই ইরানের নাগালের বাইরে থাকবে না। তিনি সাফ বলেন, “আমেরিকানদের এই অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার সময় এসেছে। আমাদের বন্দরে হামলা হলে আগের চেয়েও ভয়াবহ প্রত্যাঘাত করা হবে।”

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “ইরানে টার্গেট করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। যুদ্ধ প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত এগোচ্ছে এবং আমি চাইলেই এটি যে কোনো সময় শেষ হতে পারে।” ট্রাম্পের এই জয়োল্লাসের মধ্যেই কিন্তু মার্কিন ও ইজরায়েলি সামরিক কর্তারা ভিন্ন কথা বলছেন। তাঁদের মতে, যুদ্ধ থামানোর কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ এখনও আসেনি এবং আগামী অন্তত দুই সপ্তাহ ইরানের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এবং রণংদেহি মেজাজ—দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha