ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে দেশে রান্নার গ্যাসের হাহাকার! কেন বুকিং হচ্ছে না সিলিন্ডার?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল ভারতের হেঁশেলে। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের রান্নার গ্যাস (LPG) সরবরাহেও। দেশজুড়ে হাহাকার ও গুজবের জেরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইন্ডিয়েন (Indane) সহ একাধিক তেল সংস্থার বুকিং সিস্টেম পর্যন্ত ক্র্যাশ করে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করতে শুরু করায় তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা।

বুকিং সিস্টেম স্তব্ধ, ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা:
মানি কন্ট্রোল-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL)-এর এলপিজি ব্র্যান্ড ‘ইন্ডেন’-এর সিলিন্ডার বুকিং করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। হঠাৎ করে রিফিল বুকিংয়ের জন্য কলের সংখ্যা স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ৮ থেকে ১০ গুণ বেড়ে যাওয়ায় সংস্থার সার্ভার ক্র্যাশ করেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও ফোনে সিলিন্ডার বুক করতে পারছেন না। ফলে গ্যাস এজেন্সির গুদামগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কড়া পদক্ষেপ:
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিব এবং ডিজিপি-দের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। কালোবাজারি ও অবৈধ মজুত রুখতে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের আধিকারিক সুজাতা শর্মা জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং গুজব উপেক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, দেশে গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই, কেবলমাত্র অতিরিক্ত বুকিংয়ের চাপের কারণে সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে।

হাসপাতালে ছাড়, রেস্তোরাঁয় বিধিনিষেধ:
৮ মার্চের এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশ অনুযায়ী, শোধনাগারগুলিকে গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কিছুটা কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলোতে এলপিজি সরবরাহের ওপর সীমিত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। দিল্লি সরকার জানিয়েছে, রাজধানীতে পেট্রোল, ডিজেল এবং পিএনজি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলোও পর্যাপ্ত মজুতের আশ্বাস দিয়েছে।