আসন বণ্টনের জটিল পাটিগণিত! তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী জোটে আইএসএফ ও লিবারেশনকে নিয়ে চাপে সিপিআইএম

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের বাম শিবিরের সামনে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— বিধানসভার ‘শূন্য’ কলঙ্ক কি এবার মুছবে? তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে মরিয়া মহম্মদ সেলিম, বিমান বসুরা। কিন্তু বৃহত্তর বাম-গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ জোট গড়ার পথে পাটিগণিত ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে কংগ্রেস একলা চলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বামেদের রণকৌশলে বড়সড় রদবদল ঘটাতে হচ্ছে।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রের খবর, কংগ্রেসের ছেড়ে যাওয়া আসনগুলো নিয়ে বামফ্রন্টের অন্দরেই শরিক দলগুলোর মধ্যে টানাটানি শুরু হয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র মতো দলগুলো নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়াতে চাইছে। অন্যদিকে, জোটের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসা আইএসএফ (ISF)-কে নিয়ে সংশয় কাটছে না। নওশাদ সিদ্দিকীর দল এবার অনেক বেশি আসন দাবি করছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার মতো ৪-৬টি আসন নিয়ে সিপিআইএম ও আইএসএফ-এর মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। গতবার জোটসঙ্গী হয়েও যেখানে ফ্রন্ট শরিকরা পাল্টা প্রার্থী দিয়েছিল, এবার তেমন ‘ভুল’ এড়াতে মরিয়া বাম নেতৃত্ব।
সিপিআইএম নেতা রামচন্দ্র ডোমের মতে, এই সংকটের মুহূর্তে জ্যোতি বসুর দেখানো ‘ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের পথ’ই তাঁদের একমাত্র ভরসা। কংগ্রেসের সরে যাওয়াকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, সিপিআই (এমএল) লিবারেশন এবং জঙ্গলমহলে জেএলকেএম (JLKM)-এর মতো শক্তিগুলোকে পাশে নিয়ে বিকল্প জোট খাড়া করতে চাইছেন সেলিমরা। তবে নওশাদ সিদ্দিকীর স্পষ্ট বার্তা, “সম্মানজনক আসন বণ্টন না হলে জটিলতা বাড়বে।” নির্বাচন কমিশনের ঘণ্টা বাজার আগেই এই আসন জট ছাড়িয়ে বামেরা কতটা সংহত হতে পারে, এখন সেটাই দেখার।