আপনার অজান্তেই কি ঘরের কোণে বাড়ছে টিকটিকির বংশ? জানুন এদের গোপন আস্তানা কোথায়!

ঘরের দেওয়ালে তরতর করে চলাফেরা করা সেই খুদে সরীসৃপটিকে আমরা রোজই দেখি। টিউবলাইটের পাশে তার পোকামাকড় শিকার করার দৃশ্যও আমাদের চেনা। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, আপনার ঘরের ঠিক কোথায় এরা সংসার পাতে? বা এদের ডিমগুলোই বা থাকে কোথায়? উত্তরটা শুনলে হয়তো আজই আপনি ঘরের আলমারি বা ছবির ফ্রেমের পেছনে একবার উঁকি দেবেন।

আসলে টিকটিকিরা অত্যন্ত সুরক্ষাপ্রেমী প্রাণী। পাখিদের মতো এরা খোলা জায়গায় বাসা বাঁধে না। এদের ডিম পাড়ার জন্য প্রয়োজন উষ্ণতা এবং নিরিবিলি পরিবেশ। সেই কারণেই এরা ঘরের টিউবলাইট বা এলইডি আলোর পেছনে লুকিয়ে থাকতে ভালোবাসে। আলোর উষ্ণতা যেমন এদের আরাম দেয়, তেমনই আলোর টানে আসা পোকামাকড় খেয়ে এদের পেটপুজোও হয়ে যায় সহজে। সাধারণত ঘরের ক্যাবিনেট, আলমারির পেছনের দেওয়াল, দেওয়ালের ফাটল কিংবা ঝোলানো ছবির ফ্রেমের আড়ালে এরা ডিম পাড়ে। যেসব জায়গায় মানুষের হাত কম পড়ে এবং মাকড়সা বা অন্য শিকারি পৌঁছাতে পারে না, সেখানেই এরা নিশ্চিন্তে ডিম পাড়ে।

টিকটিকিরা সাধারণত সাদা রঙের ছোট ছোট মার্বেলের মতো দুটি করে ডিম পাড়ে। এই ডিমগুলো পাখির ডিমের মতো অতটা ভঙ্গুর নয়, বরং বেশ শক্ত হয়। বছরে কয়েকবার এরা ডিম পাড়ে এবং মজার বিষয় হলো, অনেক সময় একাধিক স্ত্রী-টিকটিকি ডিম পাড়ার জন্য একই নিরাপদ জায়গা বেছে নেয়। উষ্ণ আবহাওয়ায় ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। জন্মলগ্নে এরা মাত্র ১ সেন্টিমিটার লম্বা হলেও খুব দ্রুত বড় হয়ে ওঠে এবং জন্মের পর থেকেই বাবা-মায়ের সাহায্য ছাড়াই নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করতে শেখে। আমাদের চোখের আড়ালে ঘরের কোণেই এভাবেই গড়ে ওঠে এদের এক খুদে জগত।