অচলবস্থা বাংলায়: রাজ্য ‘এনওসি’ দিচ্ছে না বলেই কি থমকে ফ্লাইওভার? জলপাইগুড়িতে তুলকালাম।

পশ্চিমবঙ্গের রেল উন্নয়ন কি রাজনৈতিক দড়িট টানাটানিতে আটকে যাচ্ছে? ফের একবার এই প্রশ্নই মাথাচাড়া দিল জলপাইগুড়িতে দুটি ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ইতিপূর্বেই জমি অধিগ্রহণ ও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। বুধবার সেই একই সুরে রাজ্য সরকারকে ‘স্পিড-ব্রেকার’ বলে আক্রমণ করলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়।
জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিধায়ক অভিযোগ করেন, রেলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভারের কাজ আটকে রয়েছে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবে। তাঁর দাবি, “ঠাকুরনগর ফ্লাইওভারের জন্য রেল ৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও রাজ্য সরকারের অনাপত্তি শংসাপত্র (NOC) মিলছে না। একইভাবে রাঙাপানি ফ্লাইওভারের জমি অধিগ্রহণেও অসহযোগিতা করছে রাজ্য।” এই প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পের টাকা পড়ে থাকলেও কাজ এগোতে পারছে না বলে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।
এদিন এই টানাপোড়েনের মাঝেই উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে ‘হলদিবাড়ি-বালুরঘাট এক্সপ্রেস’ এবং ‘হলদিবাড়ি-বামনহাট এক্সপ্রেস’ ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন জলপাইগুড়ির সাংসদ ডা. জয়ন্ত কুমার রায়। পতাকা নাড়িয়ে ট্রেনের সূচনা করে শিখা চট্টোপাধ্যায় জানান, এই পরিষেবা চালুর ফলে এলাকার কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত শিলিগুড়ি বা বালুরঘাটের বাজারে পৌঁছে দিতে পারবেন।
কাটিহার ডিভিশনের এডিআরএম একে সিং বলেন, এই দুটি ট্রেন সম্প্রসারণের ফলে হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়ির মানুষের জন্য যাতায়াতের নতুন দিগন্ত খুলে গেল। তবে উৎসবের মেজাজের মধ্যেই রেলের বকেয়া প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে রেলের উন্নয়ন ও রাজ্যের অসহযোগিতার এই বিতর্ক জনমত গঠনে বড় ভূমিকা নিতে পারে।