ভোটের আগে উপহারের ছড়াছড়ি: অসম ও পাঞ্জাব সরকারের বড় ঘোষণা, কারা পাবেন নগদ সুবিধা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই আসরে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলি। অসম থেকে পাঞ্জাব— মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতে জনমোহিনী প্রকল্পের জোয়ার বইছে। মঙ্গলবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের ‘অরুণোদয়’ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৪০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ৯,০০০ টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মোট ৩,৬০০ কোটি টাকার এই বিশাল প্যাকেজ সরাসরি উপভোক্তাদের ডিবিটি (DBT) মোডে দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী গুয়াহাটিতে এই মেগা কর্মসূচির উদ্বোধন করে জানান, বিধবা, বিশেষভাবে সক্ষম এবং ক্যানসার আক্রান্ত পরিবারের মহিলারা এই সুবিধার অগ্রাধিকার পাবেন। রাজ্যের ৩,৮০০টি পঞ্চায়েত স্তরের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই টাকা বণ্টন করা হয়েছে। চার মাসের বকেয়া কিস্তি মিলিয়ে এই মোটা অঙ্কের টাকা মহিলারা হাতে পাচ্ছেন, যা তাঁদের আর্থিক স্বনির্ভরতায় বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে সরকার।
অন্যদিকে, পিছিয়ে নেই আম আদমি পার্টি শাসিত পাঞ্জাবও। মুখ্যমন্ত্রী ভাগবন্ত মান ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে ১,১০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি বিনামূল্যে আটা, ডাল, চা, চিনি ও সর্ষের তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে আপ সরকার। ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবে ৩০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস পরিষেবার কারণে সরকারের কোষাগারে টান পড়ছে, তা সত্ত্বেও নির্বাচনের আগে এই নতুন প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল মডেল এবং মধ্যপ্রদেশের ‘লাডলি বেহেনা’ যোজনার সাফল্য দেখেই এখন প্রায় সব রাজ্য এই পথে হাঁটছে। বর্তমানে মহারাষ্ট্রের ‘মাঝি লড়কি বহিন’ প্রকল্পের মতো স্কিমগুলি দেশজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যগুলির কল্যাণমূলক ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে বছরে ৭ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, এই ‘ফ্রিবি’ বা খয়রাতি সংস্কৃতির কারণে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ কমতে পারে। তা সত্ত্বেও, ২০২৬-এর নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে মহিলাদের সরাসরি নগদ প্রদানকেই শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলি।