ষড়রিপুর দহন না কি ঘাসফুলের প্রার্থী বদল? হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্রে তজমুল-মতিবুর দ্বৈরথে সরগরম মালদা

মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি এবার নির্বাচনের আগেই ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে। ২০১১ এবং ২০১৬-র প্রবল তৃণমূল ঝড়েও এই কেন্দ্রটি ছিল বাম-কংগ্রেসের দখলে, তবে ২০২১-এ বর্তমান মন্ত্রী তজমুল হোসেন এখানে প্রথমবার ঘাসফুল ফোটান। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমীকরণ আমূল বদলে গিয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ডামাডোল ইঙ্গিত দিচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুরের লড়াই এবার মোটেও মসৃণ হবে না তৃণমূলের জন্য।

সবথেকে বড় জল্পনা শুরু হয়েছে প্রার্থী পদ নিয়ে। একুশের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী মতিবুর রহমান সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, টিকিট নিশ্চিত করেই তিনি দলবদল করেছেন। সেক্ষেত্রে বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেনের ভবিষ্যৎ কী? স্থানীয় তৃণমূল মহলের মতে, তজমুলের ভাই জম্মু রহমানের ‘দাদাগিরি’ ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে খোদ দলের অন্দরেই। অভিষেকের কড়া বার্তার পরেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল না হওয়ায়, দল এবার মতিবুর রহমানকে প্রার্থী করে ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র কৌশল নিতে পারে বলে গুঞ্জন।

তবে ছবিটা এতটা সহজ নয়। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই কেন্দ্রে ৭৪ হাজার ভোট পেয়ে অনেকটা জমি ফিরে পেয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, বাম শিবিরেও আসন রফাকর্ষাকষি চলছে সিপিআইএম এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে। এরই মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধিও নজরে পড়ার মতো। যদি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে ওঠে, তবে ভোট কাটাকাটির খেলায় লাভ তুলতে পারে পদ্ম শিবিরও। হরিশ্চন্দ্রপুরের মানুষ এখন তজমুলের অনুগামীদের ক্ষোভ আর মতিবুরের রাজনৈতিক ক্যারিশমার লড়াই দেখার অপেক্ষায়।