আয়ুষ্মান ভারত কেন ব্রাত্য বাংলায়? ৪ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে জবাব তলব হাইকোর্টের

রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ (Ayushman Bharat Yojana) কেন কার্যকর করা হচ্ছে না, তা নিয়ে নবান্নের কাছে কৈফিয়ত চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে এই প্রকল্পে রাজ্যের অবস্থান জানাতে হবে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিল আদালত।
মামলাকারী শমীক ভট্টাচার্যের আইনজীবীর অভিযোগ, ২০১৮ সালে কেন্দ্র-রাজ্য মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হলেও ২০১৯ সালে রাজ্য সরকার একতরফাভাবে তা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা কেন্দ্রের দেওয়া ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদিনের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী বক্তব্য জানানোর জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত চার সপ্তাহ সময় দেয়। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দিতে হবে এবং তার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলকারী শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা হলফনামা দিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্প ‘স্বাস্থ্য সাথী’ অনেক বেশি কার্যকর এবং আয়ুষ্মান ভারতের ৬০-৪০ অনুপাতের খরচের জায়গায় রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য সাথীর ১০০ শতাংশ খরচ বহন করে। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রান্তিক মানুষদের এই কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। এখন দেখার, আদালতের হলফনামায় রাজ্য সরকার কী যুক্তি পেশ করে।