আরজি কর মামলায় ফের বিচারপতির ‘নাহ’! বিশবাঁও জলে তিলোত্তমার বিচার, অন্ধকারে মামলার ভবিষ্যৎ

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সুবিচার কি আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে? কলকাতা হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেল এই হাই-প্রোফাইল মামলা। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহঃ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন। এর আগে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষও নিজেকে মামলা থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। বারবার বেঞ্চ বদল এবং বিচারপতিদের সরে দাঁড়ানোয় নির্যাতিতার বিচার পাওয়া নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক পর্যবেক্ষণ করেন যে, এই বেঞ্চ ফৌজদারি আপিল মামলার জন্য নিয়মিত বেঞ্চ নয়। তাঁর মতে, আরজি কর মামলার গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর প্রতিদিন শুনানি করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা এই বেঞ্চের পক্ষে সম্ভব নয়। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এদিন আদালতে অভিযোগ করেন, সিবিআই তদন্তের নামে দিনের পর দিন সময় নষ্ট করছে। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে পরিস্থিতির জটিলতা কমছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি করের সেমিনার রুমে যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল, তাতে শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিলেও সন্তুষ্ট হয়নি পরিবার। সিবিআই ফাঁসির দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছে, আর পরিবার চেয়েছে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত। কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে হাইকোর্টে মামলার কোনো কার্যকর শুনানি হয়নি। এখন নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে যাবে। তিনিই ঠিক করবেন কোন নতুন বেঞ্চে এই সংবেদনশীল মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।