LPG সঙ্কটে কী প্রভাব? দিঘায় আকাশছোঁয়া খাবারের দাম? মাথায় হাত পর্যটকদের

বহুদূরের মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, আর তার আঁচ এসে লাগল বাঙালির প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দীঘায়! সৌজন্যে— রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকট। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে গ্যাসের জাহাজ আসতে না পারায় দেশজুড়ে যে হাহাকার শুরু হয়েছে, তার বড় প্রভাব পড়তে চলেছে দীঘা, মন্দারমণি ও শঙ্করপুরের হোটেলগুলিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পর্যটকদের পকেটে টান পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
কালোবাজারির ছায়া ও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দীঘা শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার থেকেই এলাকায় গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়েছে। হোটেল মালিকদের সিলিন্ডার প্রতি ১০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, “আগামী দিনে যুদ্ধের পরিস্থিতি না মিটলে এই কালোবাজারি আরও বাড়বে।” স্বাভাবিকভাবেই, কাঁচামালের খরচ বাড়লে হোটেলগুলিতে খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
১৩০০ হোটেলের ভবিষ্যৎ সংকটে? দীঘা, মন্দারমণি ও শঙ্করপুর মিলিয়ে প্রায় ১৩০০-এর বেশি হোটেল এই অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে রয়েছে। এর বাইরেও রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য লজ ও রেস্তোরাঁ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয় এই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দীঘার বহু হোটেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাবে। বেঙ্গালুরু বা মুম্বইয়ের মতো দীঘাতেও কি তবে রেস্তোরাঁ বন্ধের উপক্রম হবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ব্যবসায়ী মহলে।
বিকল্প খুঁজছে কেন্দ্র যদিও ভারত সরকারের তরফে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবার অস্ট্রেলিয়া, আলজেরিয়া এবং কানাডা থেকে এলপিজি আমদানির তোড়জোড় শুরু করেছে নয়াদিল্লি। তবে সেই গ্যাস বাজারে আসতে কতদিন সময় লাগবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
পর্যটকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ সাধারণত সস্তায় ঘোরার জন্য বাঙালির প্রথম পছন্দ দীঘা। কিন্তু থাকার খরচ ও খাবারের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেলে মধ্যবিত্তের বাজেটে টান পড়বে। জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন বা স্পেশাল ট্রেনের খুশির খবরের মাঝেই রান্নার গ্যাসের এই ‘সংকট’ পর্যটনের মরসুমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।