তৃণমূলের মিছিলে তুলকালাম, বাইক থেকে উল্টে আহত বিধায়ক পরেশ অধিকারী

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ‘চক্রান্তের’ প্রতিবাদে সরব হতে গিয়ে খোদ দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন মেখলিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারী। মঙ্গলবার হলদিবাড়িতে তৃণমূলের এক বিশাল বাইক মিছিল চলাকালীন পর পর দুটি দুর্ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলের শেষলগ্নে বাইক থেকে পড়ে গিয়ে চোট পান খোদ বিধায়ক। একই কর্মসূচিতে গুরুতর জখম হয়েছেন আরও এক তৃণমূল কর্মী।

আন্দোলনের মেজাজে বিপত্তি মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ২৬ হাজার ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ বা ‘এসআইআর’ (SIR) তালিকায় রাখার প্রতিবাদে এদিন রণংদেহি মেজাজে ছিল ঘাসফুল শিবির। হলদিবাড়ি নতুন বাস টার্মিনাস থেকে কয়েকশো কর্মী-সমর্থককে নিয়ে বিশাল বাইক র‍্যালির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন পরেশবাবু। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাইক ধাক্কা মারে তৃণমূল কর্মী সঞ্জিত কুমার মিত্রের গাড়িতে। রাস্তায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া ওই কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিধায়কের বাইক দুর্ঘটনা প্রথম ধাক্কা সামলে মিছিল যখন গন্তব্যে ফিরছিল, ঠিক তখনই ঘটে দ্বিতীয় বিপত্তি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাশাপাশি চলতে থাকা দুটি বাইকের হ্যান্ডেলে আচমকা সংঘর্ষ হলে ভারসাম্য হারিয়ে তিনটি বাইক রাস্তায় আছড়ে পড়ে। যার একটিতে সওয়ার ছিলেন বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী। ছিটকে পড়ে তিনি সামান্য চোট পেলেও দলীয় কর্মীরা দ্রুত তাঁর শুশ্রূষা করেন। তবে বিধায়কের আঘাত গুরুতর নয় বলেই দলীয় সূত্রে খবর।

আইনপ্রণেতার হাতেই আইনের অবমাননা? দুর্ঘটনার খবর ছাপিয়ে এদিন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ট্রাফিক আইনের চরম লঙ্ঘন। দেখা যায়, বাইক র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ কর্মী-সমর্থক তো বটেই, খোদ বিধায়কের মাথাতেও ছিল না হেলমেট! সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একজন প্রাক্তন মন্ত্রীর এই ‘বেপরোয়া’ বাইক সফর নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে— আইনপ্রণেতা হয়েও কেন তিনি ন্যূনতম সুরক্ষা বিধি মানলেন না?

বিরোধীদের কটাক্ষ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, নিয়ম মেনে এবং হেলমেট পরে গাড়ি চালালে হয়তো এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যেত। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের সাফাই— মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে আবেগ বেশি থাকায় ছোটখাটো ত্রুটি হতে পারে, কিন্তু আন্দোলন দমানো যাবে না।

বর্তমানে মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের ‘সার’ পদ্ধতি নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ, আর অন্যদিকে শাসকদলের দায়িত্বশীল নেতাদের হেলমেটহীন আচরণের বিতর্ক— সব মিলিয়ে দিনভর সরগরম উত্তরবঙ্গের এই জনপদ।