রিয়াধের আকাশে আগুনের গোলা! ৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখল সৌদি আরব, অল্পের জন্য রক্ষা পেল মার্কিন ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কয়েক ঘণ্টায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস’ লক্ষ্য করে ধেয়ে এল একের পর এক ৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তৎপরতায় আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে সেই মারণাস্ত্রগুলো। সৌদির উন্নত ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ মিসাইলগুলোকে লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগেই রুখে দেওয়ায় এক ভয়াবহ প্রাণহানি ও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
টার্গেট যখন মার্কিন ঘাঁটি:
প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস কেবল সৌদির নিজস্ব সামরিক ঘাঁটিই নয়, এখানে আমেরিকার কয়েক হাজার সেনাও মোতায়েন থাকে। ফলে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা মানে সরাসরি আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ জানানো। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও তার সহযোগী শক্তিগুলো এখন বেছে বেছে বন্ধু দেশগুলোর সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করতে চাইছে। এই ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), কাতার এবং বাহরিনও তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ত্রাহি ত্রাহি রব:
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পালটা দিতে ইরান এখন ড্রোন ও মিসাইল বর্ষণ শুরু করেছে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে। একের পর এক শহরে বিস্ফোরণ এবং মিসাইল ঠেকানোর সাইরেন সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আমিরশাহি ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত:
এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলো এখন অসুরক্ষিত। যদি যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ভারতসহ সারা বিশ্বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি সাপ্লাই চেনেও বড়সড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। আপাতত আত্মরক্ষাকেই ঢাল করে এগোচ্ছে আরব দুনিয়া, কিন্তু পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ রূপ নিতে পারে।