ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে রণক্ষেত্র পশ্চিম এশিয়া! ১৪০ মার্কিন সেনা জখম, ধ্বংস ১৬টি মাইনবাহী নৌকা

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ ১১ দিনে পা রাখতেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হচ্ছে। পেন্টাগন সূত্রে খবর, যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনেই অন্তত ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। সিবিএস নিউজ (CBS News) জানিয়েছে, দুই পক্ষই এখন চূড়ান্ত সংঘাতের জন্য রণপ্রস্তুতি সেরে ফেলেছে, যার ফলে সামরিক অভিযানের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে মাইন আতঙ্ক ও মার্কিন অভিযান:
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন মূল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, ইরান এই জলপথে নৌ-মাইন (Naval Mines) পাতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল যাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্তব্ধ করে দেওয়া যায়। এই হুমকির পাল্টা জবাবে পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের ১৬টি মাইনবাহী নৌকা ধ্বংস করেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
৯০ শতাংশ মিসাইল ক্ষমতা ধ্বংসের দাবি:
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হ্যাগসেথ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, মার্কিন অভিযানের ফলে ইরানের মিসাইল ছোঁড়ার ক্ষমতা প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার ইরানে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে মারাত্মক এবং তীব্র হামলা চালানো হবে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন যে যুদ্ধ “খুব শীঘ্রই” শেষ হতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি বলছে সংঘাতের পরবর্তী পর্যায় আরও ভয়াবহ হতে চলেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত:
ইরানি বাহিনী বর্তমানে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী কোনোভাবে অবরুদ্ধ হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের মতো দেশগুলির সাধারণ মানুষের পকেটে। যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় এখন কেবল সামরিক জয়-পরাজয় নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।