জ্বালানি সংকটে পাশে ভারত! ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে বাংলাদেশে পৌঁছচ্ছে ডিজেল; যুদ্ধের আবহে ঘুচছে দূরত্ব

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট চরমে। আমদানিকৃত তেলের ওপর ৯৫ শতাংশ নির্ভরশীল বাংলাদেশ এই সংকটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। অসমের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে সোমবার দুপুর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।
প্রকল্প ও সরবরাহের তথ্য: ২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর উদ্বোধন করেছিলেন, তার মাধ্যমেই এই জ্বালানি পৌঁছচ্ছে। ৫০০০ টন ডিজেল নিয়ে আসা এই সরবরাহ বুধবারের মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোয় পৌঁছবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মহম্মদ রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, বার্ষিক ১৮০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের চুক্তির অধীনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা এখন কাটতে শুরু করেছে। ইউনূস সরকারের আমলের অস্থিরতা কাটিয়ে তারেক রহমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে পুনরায় সুসম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত মিলেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা এবং সামরিক স্তরে আলোচনার পরই ডিজেল সরবরাহের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি ব্যবহারে যে কড়াকড়ি (মোটরসাইকেলে ১০ লিটার, গাড়িতে ৪০ লিটার) চালু হয়েছে, ভারতের এই জোগান তাতে অনেকটাই স্বস্তি দেবে।