নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি! ভোট লুট রুখতে ওসির চাকরি কাড়তে ৩১১ ধারা প্রয়োগের হুমকি জ্ঞানেশ কুমারের

আসন্ন নির্বাচনের আগে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের রীতিমতো তুলাধোনা করল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে ফুল বেঞ্চের বৈঠকে অত্যন্ত কড়া মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশন সূত্রে খবর, বৈঠকে তিনি সোজাসুজি প্রশ্ন তোলেন, “ভোটের সময় কি জেল থেকে আসামিরা পালিয়ে যায়? আমরা এমন খবর পেয়েছি। আপনারা একটু খোঁজ নিন তো!” কমিশনার স্পষ্ট করে দেন, এমন অভিযোগের সত্যতা মিললে কমিশন রেয়াত করবে না।

ওসির চাকরি যেতে পারে মুহূর্তের মধ্যে: এবারের নির্বাচনে অশান্তি রুখতে কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে থানার অধীনে অশান্তি হবে, সেই থানার ওসির বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংবিধানের ৩১১ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে সরাসরি বরখাস্ত বা ডিসমিস করতে পারে কমিশন। ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ডিজি ও মুখ্যসচিবকে তিনি বলেন, “হিংসার দায় সবাইকেই নিতে হবে।”

সুব্রত গুপ্তকে বড় দায়িত্ব: প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি বাড়াতে সুব্রত গুপ্তকে ‘ইলেকশন অবজার্ভার’ হিসেবে নিয়োগ করেছে কমিশন। তিনি যে কোনো নির্বাচনী আধিকারিককে তলব করতে পারেন এবং নির্দেশ দিতে পারেন। এছাড়াও, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের রেশ টেনে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে কোনো কারচুপি সহ্য করা হবে না।