‘তুকতাক করেই বংশের বাতি নিভিয়েছে!’ তান্ত্রিক সন্দেহে স্ত্রীকে নির্মম বলি দিল স্বামী!

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের থাবা যে কতখানি ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল ছত্তিশগড়ের জাশপুর জেলা। কালাজাদু বা ‘তুকতাক’ করার সন্দেহে ৪৮ বছর বয়সি এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামী ও আরও তিনজনের বিরুদ্ধে। আদিবাসী অধ্যুষিত গাট্টি মহুয়া গ্রামের এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
সন্তান না হওয়া ও বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী স্ত্রী! পুলিশি জেরায় ধৃত স্বামী স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘকাল ধরে সন্দেহ করতেন যে তাঁর স্ত্রী গৌদি বাই কালাজাদু করেন। তাঁর দাবি, স্ত্রীর এই তুকতাকের কারণেই তাঁদের কোনও সন্তান হয়নি। শুধু তাই নয়, তাঁর বাবার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পিছনেও স্ত্রীর অশুভ শক্তির হাত রয়েছে বলে বিশ্বাস করতেন তিনি। এই আক্রোশ থেকেই খুনের নীল নকশা তৈরি করা হয়।
মদ্যপ অবস্থায় নারকীয় তাণ্ডব: ঘটনাটি ঘটে গত ৫ মার্চ। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ওইদিন বিকেলে গৌদির সঙ্গে তাঁর স্বামীর অন্য এক স্ত্রীর বচসা হয়। এরপর তাঁকে একটি নির্জন কুঁড়েঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামী এবং অন্য এক দম্পতি মিলে দেশি মদ খাচ্ছিল। মত্ত অবস্থায় চারজন মিলে গৌদির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কালাজাদুর অপবাদ দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দেহটি বাড়িতে এনে বিছানায় শুইয়ে কম্বল চাপা দিয়ে রাখা হয় যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
পুলিশি তৎপরতায় রহস্যভেদ: ৬ মার্চ মৃত গৃহবধূর ভাই থানায় গিয়ে দিদির রহস্যজনক মৃত্যুর খবর দিলে তদন্তে নামে পুলিশ। বিছানায় চাপ চাপ রক্ত আর শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুনের বিষয়টি নিশ্চিত হতেই শুরু হয় জেরা। একে একে চারজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। শিক্ষিত সমাজের বুকে এই কুসংস্কারের বলি হওয়ার ঘটনা ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।