ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কি বন্ধ হচ্ছে ৬০ লক্ষ মানুষের? অভিষেকের তোপে মেজাজ হারালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই নির্বাচন কমিশন বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার ধর্মতলায় এসআইআর (SIR) ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে যে ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও স্থগিত (Freeze) করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। অভিষেকের এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পালটা জবাব দিতে দেরি করেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এদিন কলকাতায় সফর শেষে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কোনো নেতার নাম না নিলেও সাফ জানিয়ে দেন, “রাজনৈতিক নেতারা অনেক কিছুই বলতে পারেন, কিন্তু ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা বা ভয় দেখানো কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি সংবিধান ও আইন মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে। কোনো বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

ধর্মতলার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক আরও দাবি করেন, তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই সাধারণ মানুষের সমস্ত নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটা চক্রান্ত। যদিও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এই রাজনৈতিক মন্তব্যের সরাসরি উত্তর না দিলেও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক তর্কের উত্তর দেয় না। তবে ভোটের সময় কোনো দল বা নেতার অনুগামীরা যদি ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা ভয় দেখায়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুই দিনের ঠাসা কর্মসূচি শেষে দিল্লির পথে রওনা হওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও পক্ষপাতহীন নির্বাচন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এসআইআর নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও আইন ভাঙার চেষ্টা হলে যে কমিশন ‘কঠোরতম’ অবস্থান নেবে, তা আজ জ্ঞানেশ কুমারের কথাতেই পরিষ্কার। রাজ্য সফর শেষে দিল্লির পথে পা বাড়ানোর সময় কমিশনের এই কড়া অবস্থান আগামী দিনে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।