টাকা দিচ্ছে বিজেপি? “টাকা নিন কিন্তু ভোট নয়,” হুগলির ঘটনা টেনে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বাংলার রাজনীতিতে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। সোমবার মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভোটের ঠিক মুখে বাংলার রাজ্যপাল বদলের সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, এই আকস্মিক পরিবর্তনের নেপথ্যে বড় কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে এবং তিনি তার শেষ দেখে ছাড়বেন।

“রাজভবন কি এখন বিজেপি ভবন?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজভবনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে বিজেপি। তিনি বলেন, “এই রাজ্যপালকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে অনেক কাহিনি আছে। ডাল মে কুছ কালা হ্যায়! আমি এর কারণ খুঁজে বের করবই।” তাঁর দাবি, নতুন রাজ্যপালকে বসিয়ে রাজভবনকে কার্যত ‘বিজেপি ভবন’ বানিয়ে সেখান থেকে নির্বাচনের কালো টাকা লেনদেনের পরিকল্পনা চলছে।

টাকা ও হুমকির অভিযোগ এদিন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সাংসদ ও মন্ত্রীরা হুগলি-সহ বিভিন্ন জেলায় খালি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ডেরা বেঁধেছেন। সেখান থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বিলি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “টাকা তো আপনাদেরই, নিলে আজকের দিন চলবে কিন্তু ৩৬৫ দিনের ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে। তাই টাকা নিলেও ভোট দেবেন না।”

পাশাপাশি, রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় সংস্থার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও সরব হন তিনি। দিল্লির কর্তাদের পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মমতা বলেন, “মে মাসের পর আপনারা ওই চেয়ারে থাকবেন তো? আগে সেটা ঠিক করুন, তারপর বাংলার অফিসারদের ভয় দেখাবেন।” নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।

‘এজেন্সি দিয়ে বাংলা জয় অসম্ভব’ ইডি, সিবিআই এবং আয়কর দফতরের অতি-সক্রিয়তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখিয়ে বাংলাকে কবজা করা যাবে না। বিজেপিকে ‘রাজনৈতিক হ্যাংলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “যতই এজেন্সি দেখাও, ছাব্বিশের ভোটে তোমরা হবে বাই-বাই।”