চাপে পড়ে পদত্যাগ? ‘ডাক্তার বললেন আমার প্রেসার নর্মাল’, বিস্ফোরক সিভি আনন্দ বোস!

রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফা ঘিরে উত্তাল বাংলার রাজনীতি। কেন তিনি সরে দাঁড়ালেন? এটি কি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নাকি নেপথ্যে রয়েছে দিল্লির কোনো চাপ? সোমবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই সমস্ত প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে এক অদ্ভুত এবং রহস্যময় উত্তর দিলেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল।
চাপ বনাম ব্লাড প্রেসার: বোসের হেঁয়ালি শনিবার মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, সিভি আনন্দ বোসকে ‘ভয় দেখানো’ এবং ‘থ্রেট’ করা হয়েছে বলেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। এদিন সাংবাদিকদের তরফে যখন সরাসরি প্রশ্ন করা হয় যে তিনি কি রাজনৈতিক চাপে পদত্যাগ করেছেন? উত্তরে স্মিত হেসে বোস বলেন, “আমি চাপে পড়ে পদত্যাগ করেছি কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে আমার প্রেসার সম্পর্কে জানতে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। উনি জানিয়েছেন, আমার প্রেসার নর্মাল।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। অনেকেই মনে করছেন, ‘প্রেসার নর্মাল’ বলে তিনি আদতে কোনো অদৃশ্য চাপের কথাকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন।
লোকভবন ত্যাগ ও কুণাল ঘোষের মন্তব্য রবিবার কলকাতায় ফিরলেও রাজভবন বা লোকভবনে পা রাখেননি আনন্দ বোস। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছিলেন, ‘অভিমানে’ রাজভবন এড়িয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন রাজ্যপাল বলেন, “যতদিন রাজ্যপালের পদে ছিলাম, লোকভবনে থাকতাম। আমি মানুষের মাঝে থাকতে ভালোবাসি, তাই এখন অন্য জায়গায় আছি।” তাঁর এই অবস্থান রাজ্য সরকারের একাংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্বকেই স্পষ্ট করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মমতার সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ এবং বাংলার প্রতি প্রেম প্রশাসনিক স্তরে নবান্ন ও রাজভবনের লড়াই দীর্ঘদিনের হলেও, যাওয়ার আগে সৌজন্যবোধ বজায় রাখতে চান বোস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলা ছাড়ার আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। কেরলের পাশাপাশি বাংলাকেও নিজের ঘর বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমি বাংলাকে ভালোবাসি এবং বারবার ফিরে আসব।”
বিদায় বেলায় কোনো তিক্ততা নয়, বরং একগুচ্ছ রহস্য আর বাংলার প্রতি ভালোবাসার বার্তা দিয়েই দিল্লি বা কেরলের পথে রওনা হতে প্রস্তুত সিভি আনন্দ বোস।