ফাইনালে নামার ৪৮ ঘণ্টা আগে স্বজনহারা! দিদি-জামাইবাবুর মৃত্যুশোক চেপে ভারতকে জেতালেন ঈশান

খেলার মাঠ যখন জীবনের কঠিনতম পরীক্ষার ময়দান হয়ে ওঠে, তখন জন্ম নেয় রূপকথার। গতকাল আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ভারত যখন তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলল, তখন গ্যালারির উল্লাস ছাপিয়ে একজনের লড়াই হয়ে থাকল চিরস্মরণীয়। তিনি ঈশান কিষান। ফাইনালের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে দিদি ও জামাইবাবুকে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছিলেন ঈশান। কিন্তু ব্যক্তিগত শোককে দেশের কর্তব্যের কাছে হার মানিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ফল? মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস এবং ৩টি দর্শনীয় ক্যাচ। ম্যাচ শেষে চোখের জলে এই জয় দিদি ও জামাইবাবুকে উৎসর্গ করলেন ভারতের এই তরুণ তুর্কি।

শোকাতুর পরিবার ও বাবার সেই বার্তা: শুক্রবার যখন ঈশানের দিদি ও জামাইবাবুর মৃত্যুর খবর আসে, তখন গোটা পরিবার ভেঙে পড়েছিল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, শোকাতুর বাবা প্রণব কিষান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, “ঈশান বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ও দেশের জন্যই খেলবে। আমরা কেউ খেলা দেখতে যাব না, কিন্তু ঈশান মাঠে থাকবে।” সতীর্থদের সান্ত্বনা আর বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে গতকাল মাঠে নেমেছিলেন ঈশান। সেই লড়াইয়ের প্রতিফলন দেখা গেল তাঁর ব্যাটে।

অভিশপ্ত অতীত ও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: কয়েক মাস আগেও ঈশানের জীবন ছিল ঝোড়ো হাওয়ার মতো। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিসিসিআই-এর বার্ষিক চুক্তি থেকে বাদ পড়েছিলেন। রঞ্জি ট্রফি না খেলা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে বিরতি নেওয়ার পর দুবাইতে ছুটি কাটানো নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। ফর্ম হারিয়েছিলেন আইপিএলেও। কিন্তু রাহুল দ্রাবিড়ের পরামর্শে ডোমেস্টিক ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে নতুন করে চিনেছেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ঝাড়খণ্ডকে চ্যাম্পিয়ন করার পরেই জাতীয় দলের দরজা খোলে তাঁর। গতকালের ৫৪ রানের ইনিংস প্রমাণ করল, ঈশান শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি মানসিকভাবে ইস্পাতের মতো দৃঢ় এক যোদ্ধা।