‘আলো’ ছবির পরিবারে ফের নক্ষত্রপতন! তমাল জেঠুর মৃত্যুতে কেন অপরাধবোধে ভুগছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়?

বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতের এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হলো। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক তমাল রায়চৌধুরী। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। ২০০৩ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘আলো’-তে অভিনয় করার সময় থেকেই ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বর্ষীয়ান এই অভিনেতার প্রয়াণের খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছেন ভাস্বর।
স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ভাস্বর বলেন, “তমাল জেঠু ভীষণ শিক্ষিত এবং রসিক মানুষ ছিলেন। কাউকে ডেকে মজা করে বলতেন— ‘এদিকে আয় তো, তোকে একটু অপমান করি’। ওঁর সেই রসিকতা আজ কেবলই স্মৃতি।” তবে শোকের পাশাপাশি একরাশ আক্ষেপ ঝরে পড়েছে ভাস্বরের গলায়। তিনি বলেন, “আমরা শিল্পীরা এমনই, কাজ শেষ হলে আর কারও খবরাখবর রাখি না। শেষ এক বছরে ওঁর কোনো খোঁজ নিইনি, আজ খবরটা পেয়ে খুব খারাপ লাগছে। ‘আলো’ ছবির একে একে কত মানুষ চলে গেলেন—ভারতী দেবী, কুণাল মিত্র, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, আর এবার তমাল জেঠু।”
অন্যদিকে, বাচিক শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ও অভিনেতা সুজন নীল মুখোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন। সুজয় প্রসাদ তাঁকে নিজের ‘শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “তমাল দা শিখিয়েছিলেন জীবনের সঙ্গে রসিকতা করতে। শেক্সপিয়ার পড়ার শিক্ষা ওঁর থেকেই পাওয়া।” অভিনেতা সুজন লিখেছেন, “তমাল দা আজ রাজার মতো মৃত্যুবরণ করলেন।” টলিপাড়ার শিল্পীদের মতে, তমাল রায়চৌধুরীর প্রয়াণে বাংলা নাটকের মঞ্চে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো।