বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার! ১২০ ডলারের দোরগোড়ায় ব্রেন্ট ক্রুড, ইরান যুদ্ধে কি বন্ধ হবে হরমুজ প্রণালী?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের দামামা বাজতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন লেগেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়। যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে ক্রমাগত হামলার জেরে জোগান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইজরায়েলের রাতারাতি হামলায় তেহরানের তেল ডিপো ভস্মীভূত হওয়ার পর থেকেই আকাশছোঁয়া দরের সাক্ষী থাকছে আন্তর্জাতিক বাজার।
বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। রাইস্টাড এনার্জির রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ভয়ে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলি থেকে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ফলে স্টোরেজ ট্যাঙ্ক উপচে পড়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলি। সবথেকে খারাপ অবস্থা ইরাকের; যুদ্ধের আগে যেখানে দৈনিক ৪৩ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ লক্ষ ব্যারেলে—যা প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন হ্রাসের সমান।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল তেলের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ার বাজারেও। টোকিওর নিক্কেই ২২৫ সূচক এদিন ৫.২ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের উপরে স্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছাবে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলি, যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা বড়সড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম কমার আশ্বাস দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি কিন্তু উল্টো ইঙ্গিতই দিচ্ছে।