বসে না দাঁড়িয়ে? পুজোর সময় কোন ভঙ্গিতে ডাকলে দ্রুত সাড়া দেন ঈশ্বর? জানুন শাস্ত্রের গুপ্ত নিয়ম

আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিত্তি হলো মনের একাগ্রতা। কিন্তু আপনি কি জানেন, পুজোর সময় আপনার বসার ভঙ্গি বা শরীরের অবস্থান আপনার প্রার্থনার ফল নির্ধারণ করতে পারে? শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, উপাসনার সময় শরীরের ভঙ্গি মনের অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সঠিক নিয়ম না জানলে অনেক সময় নিষ্ঠা ভরে পুজো করেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পুজো সাধারণত বসে করাকেই শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয়। যখন একজন ব্যক্তি শান্ত হয়ে কোনও নির্দিষ্ট আসনে বসে আরাধনা করেন, তখন তাঁর মন অনেক বেশি স্থির থাকে। শাস্ত্র মতে, বসে উপাসনা করলে চিত্ত চঞ্চল হয় না, ফলে মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তির প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে ভুলেও সরাসরি মেঝেতে বসে পুজো করবেন না। এতে শরীরের আধ্যাত্মিক শক্তি বা ‘উর্জা’ মাটিতে বিলীন হয়ে যায়। তাই সর্বদা কুশাসন, পশমের আসন বা পরিষ্কার সুতির কাপড়ের আসন ব্যবহার করা উচিত। একটি নির্দিষ্ট আসন প্রতিদিন ব্যবহার করলে উপাসনার প্রতি একধরণের মানসিক শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা তৈরি হয়।

তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করাও শাস্ত্রসম্মত। যেমন আরতি, মন্দির পরিক্রমা বা সংকীর্তনের সময় দাঁড়িয়ে বা সচল অবস্থায় ঈশ্বরকে স্মরণ করা হয়। আবার শারীরিক অক্ষমতার কারণে কেউ বসে থাকতে না পারলে ভক্তিভরে দাঁড়িয়েও পূজা সম্পন্ন করতে পারেন। কারণ শাস্ত্রের আচারের চেয়েও ভক্তিকে ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। পুজোর আগে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান এবং শান্ত মনে নেতিবাচক চিন্তা মুক্ত হয়ে বসা একান্ত আবশ্যক। সঠিক নিয়ম ও গভীর বিশ্বাস নিয়ে উপাসনা করলে কেবল মানসিক শান্তিই নয়, গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধিও বজায় থাকে।