সমুদ্রের বুকে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ গর্জন! ৬০টি শক্তিশালী চপার নিয়ে নৌসেনার ভোলবদল

ভারত মহাসাগরে নিজেদের ক্ষমতা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় নৌবাহিনী। আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে নৌ-বহরকে আরও শক্তিশালী করতে ৬০টি নতুন UH-M (Utility Helicopter Maritime) হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই কপ্টারগুলি হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা HAL-এর জনপ্রিয় ‘ধ্রুব’ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে সাধারণ হেলিকপ্টারের চেয়ে এর গঠনশৈলী এবং যুদ্ধক্ষমতা অনেকটাই ভিন্ন এবং আধুনিক।
এই প্রকল্পের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। HAL সূত্রে খবর, হেলিকপ্টারটির প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক মডেলের উড্ডয়ন পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রযুক্তিগত শংসাপত্র পাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে, ২০২৮ সাল থেকেই এর পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে।
কেন এই হেলিকপ্টার অনন্য?
নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে জায়গার অভাব থাকে। সেই প্রতিকূলতার কথা মাথায় রেখেই UH-M-এর নকশা করা হয়েছে। এতে রয়েছে ভাঁজ করা যায় এমন টেইল বুম এবং রোটর ব্লেড। ফলে এটি ডেস্ট্রয়ার বা বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজের ছোট হ্যাঙ্গারেও অনায়াসে রাখা যাবে। এছাড়া সামুদ্রিক নোনা হাওয়া ও আর্দ্রতার হাত থেকে বাঁচতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত গিয়ারবক্স সিস্টেম, যা যে কোনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম।
নজরদারি ও উদ্ধারকাজে নতুন দিগন্ত:
এই হেলিকপ্টারের নাকে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক AESA রাডার, যা একই সাথে সমুদ্রের বুকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর নজর রাখতে পারবে। জলদস্যু দমন থেকে শুরু করে মাঝসমুদ্রে উদ্ধারকাজ (Search and Rescue), চিকিৎসা পরিষেবা বা দুর্গম ফাঁড়িতে রসদ পৌঁছে দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই এই কপ্টার হবে নৌসেনার ‘গেম চেঞ্জার’। পুরনো কপ্টারগুলি সরিয়ে এই দেশীয় UH-M যুক্ত হলে ভারত মহাসাগরে ভারতের নজরদারি ও অপারেশনাল ক্ষমতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।