“গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত!” ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে মেজাজ হারালেন মমতা, বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ কটাক্ষ

ধর্মতলার ধরনা মঞ্চের তৃতীয় দিনে রীতিনীতি মেনেই রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ধরনা মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ বলে আক্রমণ করার পাশাপাশি পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অভিযোগ, ধরনার জায়গার ঠিক পাশেই বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র প্রচার চালানো হচ্ছিল এবং লিফলেট বিলি করা হচ্ছিল। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এজেন্সি দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এদের হাতে-নাতে ধরতে হবে। এদের গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজাকে নির্দেশ দেন ওই লিফলেট বিলিকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার। তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “অন্যায় করলে ফোঁস করতে হয়। ভোট আসলেই এনআইএ-সহ একাধিক এজেন্সি পাঠায় বিজেপি। এখন ধরনার জায়গায় লিফলেট বিলি করে উস্কানি দিচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়ে বলে তৃণমূল সূত্রের দাবি।

অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতি যখন মমতার ধরনা নিয়ে উত্তাল, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক সেরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি অভিযোগ করেন, বৈঠকে তাঁকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জনৈক কমিশনার তাঁকে ‘ডোন্ট শাউট’ (চিৎকার করবেন না) বলে ধমক দিয়েছেন। চন্দ্রিমার দাবি, “আমি একজন মহিলা মন্ত্রী, আমার ওপর চিৎকার করা হচ্ছে! আমরা ৬৩ লক্ষ ভোটার বাদ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম, কিন্তু সদুত্তর মেলেনি।”

চন্দ্রিমার আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের কাছে দরবার করতে গেলে তাঁদের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। সব মিলিয়ে ধরনা মঞ্চ থেকে কমিশনের বৈঠক— মঙ্গলবার দিনভর তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথে তপ্ত রইল বাংলার রাজনীতি।