কালীঘাটে নজিরবিহীন উত্তেজনা! জনরোষের মুখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, কালো পতাকা আর ‘গো-ব্যাক’ স্লোগানে কাঁপল মমতার গড়!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার রাজপথ। রবিবার রাতে কলকাতায় পা রাখার মুহূর্ত থেকে সোমবার সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়া পর্যন্ত— বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। বিমানবন্দর থেকে কালীঘাট, সর্বত্রই তাঁকে কালো পতাকা এবং ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র কালীঘাটে মা কালীর আশীর্বাদ নিতে যান জ্ঞানেশ কুমার। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বড়সড় কারচুপি হয়েছে। বিজেপির নির্দেশে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা থেকে রাজ্যের বহু মানুষের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। নিরাপত্তার কড়া ঘেরাটোপের মাঝেও বিক্ষোভকারীরা কমিশনারের কনভয়ের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তবে বিক্ষোভ এড়িয়েই মন্দিরে প্রবেশ করেন সিইসি এবং ভক্তিভরে মায়ের আরতি ও পুজো সেরে করজোড়ে মন্দির ত্যাগ করেন।

বিক্ষোভের সূত্রপাত অবশ্য রবিবার রাত থেকেই। রাত ৯টা নাগাদ বিমানবন্দরে নামার পরই মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে সিপিএম কর্মীরা ভিআইপি রোডে তাঁকে কালো পতাকা দেখান। তাঁদের দাবি, ‘প্রকৃত ভোটারদের’ বাদ দিয়ে নির্বাচন করা চলবে না। অন্যদিকে, বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পথে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখেও পড়েন তিনি।

আগামী দু’দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্য সচিব, ডিজি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নোডাল এজেন্সির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। স্পর্শকাতর বুথ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা— সবটাই খতিয়ে দেখে মঙ্গলবারই দিল্লিতে ফিরবেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই সফরের পরই যে কোনও দিন বেজে যেতে পারে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের রণদামামা।