“সব মৃতদেহ ইরানে ফেরত পাঠানো হবে”, শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীর ঘোষণায় কি চটবে ওয়াশিংটন? কূটনৈতিক যুদ্ধে সরগরম ভারত মহাসাগর

ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশি এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির দাবার বোর্ড। ইরানি রণতরী IRIS Dena ডুবিয়ে দেওয়ার পর এবার উদ্ধার হওয়া নাবিক ও নিহতদের দেহ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক সংঘাত। একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের রক্তচক্ষু, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন—এই দুইয়ের চাপে পড়ে দিশেহারা শ্রীলঙ্কা। আমেরিকার সাফ বার্তা: উদ্ধার হওয়া কোনো ইরানি নাগরিককেই এখন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না।
আমেরিকার কড়া নির্দেশ ও শ্রীলঙ্কার উদ্বেগ রয়টার্স সূত্রের খবর, মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক কলম্বোকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে যে, IRIS Dena থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ৩২ জন এবং অন্য একটি জাহাজ IRIS Booshehr থেকে উদ্ধার হওয়া ২০৮ জন ইরানি নাগরিককে কোনোভাবেই তেহরানের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কার ওপর এই চাপ এখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার জননিরাপত্তা উপমন্ত্রী সুনীল ওয়াটাগলা পার্লামেন্টে আক্ষেপ করে বলেন, “একদিনে হাসপাতাল মৃতদেহে ভরে গিয়েছে, এই দায়ভার কে নেবে?”
মৃতদেহ নিয়ে বড় ঘোষণা শ্রীলঙ্কার আমেরিকার চাপ থাকলেও মানবিক খাতিরে নিহতদের দেহ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। মন্ত্রী অরুণ জয়শেখর জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ৮৪টি দেহ ময়নাতদন্ত শেষে রেফ্রিজারেশনে রাখা হয়েছে এবং শীঘ্রই সেগুলি ইরানে পাঠানো হবে। শ্রীলঙ্কার ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে ২২ মিলিয়ন (শ্রীলঙ্কান মুদ্রা) খরচ করে একটি ভ্রাম্যমাণ কোল্ড স্টোরেজ দান করেছেন যাতে দেহগুলি পচনের হাত থেকে রক্ষা পায়। তবে এই দেহগুলি আকাশপথে নাকি জলপথে পাঠানো হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আন্তর্জাতিক আইনের লড়াই শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমার দিসনায়েক জানিয়েছেন, তাঁরা হেগ সম্মেলনের নীতি (Hague Convention) মেনে চলবেন। এই নীতি অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় নিরপেক্ষ দেশ যোদ্ধাদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। তবে রেড ক্রসের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আহতরা যদি স্বেচ্ছায় ফিরতে চান, তবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (International Humanitarian Law) প্রয়োগ করে তাঁদের প্রত্যর্পণের পথ প্রশস্ত হতে পারে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের এই ছায়াযুদ্ধে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে।